পুলিশি হামলা-বাঁধা অতিক্রম করে বিক্ষুব্ধ পদযাত্রা ও স্মারকলিপি পেশ

যুগবার্তা ডেস্কঃ শিক্ষার্থী আফসানা ফেরদৌসের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে পুলিশের হামলা ও বাঁধা অতিক্রম করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষুব্ধ পদযাত্রার মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। এছাড়াও সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় ডিসি কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
আজ দুপুর ১২টায় মধুর ক্যান্টিন হতে বিক্ষুব্ধ জঙ্গি মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দোয়েল চত্বরে এসে পুলিশি ব্যারিকেডের সামনে পড়ে, ব্যারিকেডটি ভেঙ্গে মিছিল এগিয়ে যায়। হাইকোর্ট মোড় ও প্রেসক্লাব দিয়ে জঙ্গি মিছিল সবিচবালয়ের সামনে আবারো ব্যারিকেডের সামনে পড়ে, সেটিও বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা ভেঙ্গে ফেলে। সচিবালয়ের সামনে ব্যারিকেড ভাঙ্গার সময় পুলিশের হামলায় আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কনক হায়াত, ঢাকা মহানগর সংসদের খিলগাঁও শাখার স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং ঢা.বি. সংসদের জগন্নাথ হল শাখার প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক রাজীব রাজকুমার। তারা তিনজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিক্ষুব্ধ পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে স্মারকলিপি পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি লাকী আক্তার। তিনি আফসানা হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেন। লাকী আক্তার বলেন, ৭ দিনের মধ্যে রবিনকে গ্রেফতার করতে না পারলে বর্ষবরণে যৌন নিপীড়ন, তনু, মিতুর গতিধারায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ব্যর্থতা দিনের আলোর মত পরিস্কার হয়ে যাবে এবং আমরা তার পদত্যাগ দাবি করতে বাধ্য হব।
কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি লিটন নন্দী বলেন, ‘আমরা আমাদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করলাম, ছাত্র ইউনিয়ন গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাই ছাত্র আন্দোলনের গতিধারায় পরবর্তীতে আরো বৃহত্তর কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আফসানাসহ সকল নারী ধর্ষণকারী ও খুনীদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে চায়।’
কেন্দ্রীয় সভাপতি লাকী আক্তার, সহ-সভাপতি লিটন নন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সেন গুপ্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি অনিক রায়, কেন্দ্রীয় সদস্য মাহমুদা খাঁ’র সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় তার কার্যালয়ের একজন সিনিয়র সচিব স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রবেশ করলে সচিবালয়ের সামনে সমাবেশ চলতে থাকে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সভাপতি জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক জি.এম রাব্বি, সাংগঠনিক সম্পাদক জহর লাল রায়, সহ-সভাপতি দীপক শীল, সহ-সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সেতু, কক্সবাজার জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক অন্তিক চক্রবর্তী সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দেশে এতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তবুও শাসকগোষ্ঠীর সদ্বিচ্ছার অভাবে অধিকাংশ সময়ই ধর্ষক ও হত্যাকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। সিসি টিভি ফুটেজে রবিনকে হাসপাতালে লাশ রেখে যেতে দেখা গেলেও কেন তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং গ্রেফতার করা হচ্ছে না। রবিনের সাথে ছাত্র লীগের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করা হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা গেছে। আদতে তিনি শুধু ছাত্রলীগ তেজগাঁও কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকই নন, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার কর্মী ছিলেন।