পুঁজিবাদী বিশ্বায়ন থেকে দেশের অর্থনীতিকে মুক্ত করতে হবেঃসিপিবি-বাসদ

105

যুগবার্তা ডেস্কঃ সিপিবি-বাসদ আয়োজিত সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সারাদেশে বইছে লুটপাটের জোয়ার। একের পর এক লুটের খবর বেরিয়ে আসছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার লুটের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। শেয়ার বাজার, ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হলমার্ক, বেসিক ব্যাংকের পর এবার দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুটপাট এবং সর্বশেষ জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তার ২ কোটি টাকা লুটপাট রেহাই পাচ্ছে না কোনো কিছুই। তিনি বলেন, দেশের আর্থিক নিরাপত্তা বিদেশি বহুজাতি ফার্মের কাছে গচ্ছিত রাখলে তা কখনই নিরাপদ হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, বেসিক ব্যাংক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হলমার্ক কেলেঙ্কারীসহ সকল আর্থিক জালিয়াতির হোতাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল -বাসদ আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, নগর নেতা জুলফিকার আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লাবলু। উপস্থিত ছিলেন সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, কাফি রতন, বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা টাকা লুটপাটের ঘটনায় ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অর্থমন্ত্রীকে অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, এই যে লুটপাটের জোয়ার তাকে সরকার নানাভাবে আড়াল করতে চাইছে। উন্নয়নের শ্লোগান দিয়ে তারা এই লুটপাটকে ঢেকে দিতে চেষ্টা করছে। লুটেরা শক্তিকে একের পর এক লুটের সুযোগ করে দিচ্ছে। সরকারের ধনীক তোষণনীতির কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, ফলে সরকার এই কেলেঙ্কারীর দায় এড়াতে পারে না। গ্রামের দরিদ্র কৃষককে ১০ হাজার টাকা ঋণের দায়ে কোমরে দড়ি পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু হলমার্কসহ হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটকারীদের কোন বিচার হয় না। কারণ অনেক এমপি-মন্ত্রী এসব লুটপাটকারীদের টাকায় ভাগ বসায়। ঢাকা শহরে এফবিআই এর অফিস আছে বলে সরকার স্বীকার করে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দেশ স্বাধীন করেছি দেশে এফবিআই অফিস রাখার জন্য নয়।
সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা সিপিডি’র এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বছরে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। যে টাকা দেশের শ্রমজীবী মানুষের কষ্টার্জিত টাকা। দেশের ১ কোটি প্রবাসী বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স দেশে পাঠায়। ৪৫ লক্ষ গার্মেন্ট শ্রমিকের শ্রমে বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী আয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ২৮ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে ১ বিলিয়ন ডলার লুটে নিয়েছে আন্তর্জাতিক লুটেরাচক্র।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে গিয়ে সরকার লুটেরা ধনবাদী সমাজব্যবস্থায় দেশ চালাচ্ছে। লুটেরা ধনবাদী ব্যবস্থাই এই লুটপাটতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে। যা আজ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এই মহামারীকে রুখতে প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের ধারা ও চেতনায় দেশকে ফিরিয়ে আনা।