পিইসি পরীক্ষা বাতিল,জেএসসি পরীক্ষা কার স্বার্থে?

69

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাঈমা খালেদ মনিকা ও সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রি চক্রবর্তী রিন্টু একযুক্ত বিবৃতিতে শুধু প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) নয়, জেএসসি পরীক্ষাও বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এবছর থেকেই পিইসি পরীক্ষা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ২০০৯ সালে এ পরীক্ষা প্রবর্তনের পর থেকেই আমরা এর অসারতা তুলে ধরে বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। সাম্প্রতিক সময়ে সর্বমহল থেকে এই পরীক্ষা তুলে দেয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়। বিশেষত ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এ
পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নামে। অভিভাবকদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল।’
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘পিইসি পরীক্ষা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও জেএসসি পরীক্ষা বহাল রাখার কারণটি বোধগম্য নয়। পিইসি পরীক্ষার মতো জেএসসি পরীক্ষা চালুর মধ্য দিয়েও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের ধারা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। ভালো ফলাফলের আশায় অভিভাবকরা সন্তানকে কোচিং-প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। নোট-গাইড বইয়ের ওপরও নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এমনকি অভিভাবকদের ভালো রেজাল্টের
আকাক্সক্ষাকে পুঁজি করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দৌরাত্মও বেড়েছে। যে বয়সে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল জাগ্রত করে জগতজীবনের রহস্য, তার কার্যকারণ সম্পর্কে আনন্দদায়ক পাঠের মধ্য দিয়ে তার কৌতূহল নিবৃত্ত করবার কথা সেই বয়সে কোমলমতি শিশুরা পরীক্ষার চাপে পিষ্ট। ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অভিভাবকদের নাভিশ্বাস উঠছে। তাই আমাদের সংগঠনসহ শিক্ষক-শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা অনেক আগে থেকেই এই পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। এখন আন্দোলনের মুখে পিইসি পরীক্ষা তুলে দেয়ার যৌক্তিকতা বুঝলে জেএসসি পরীক্ষা বহাল রাখা
হচ্ছে কার স্বার্থে? আমাদের আশঙ্কা জেএসসি পরীক্ষা বহাল রাখার ফলে অষ্টম শ্রেণীর পর ড্রপ আউটের হার বেড়ে যাবে। বাস্তবে এর মধ্য দিয়ে সরকারের শিক্ষা সংকোচনের নীল নকশাই বাস্তবায়িত হবে। তাই আমরা শুধু পিইসি নয়, অবিলম্বে জেএসসি পরীক্ষাও বাতিলের জোর দাবি জানাই।’সংবাদ বিজ্ঞপ্তি