পার্বত্য অঞ্চলের শ্রমিকদের কল্যাণে কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে

52

যুগবার্তা ডেস্কঃ দেশের পার্বত্য অঞ্চলের শ্রমিকদের কল্যাণ সুবিধাদি ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং জোরদারকরণে শ্রম কল্যাণ কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় “দেশের পার্বত্য অঞ্চলের শ্রমিকদের কল্যাণ সুবিধাদি ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং জোরদারকরণে ঘাগড়ায় একটি বহুবিধ সুবিধাসহ শ্রম কল্যাণ কমপ্লেক্স নির্মাণ” নামক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫.৯৩ কোটি টাকা। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় শ্রম পরিদপ্তর এপ্রিল, ২০১৭ হতে জুন, ২০২০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করবে।
প্রকল্পটির আওতায় দেশের ০৩টি পার্বত্য জেলায় বসবাসরহ আদিবাসী শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিক কল্যাণ, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের অীধকার প্রতিষ্ঠার নিশ্চিয়তাসহ বিবিধ সেবামূরক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা; পার্বত্য জেলায় বসবাসরহ প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিন্যামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানে ল্যাবরেটরী সুবিধাসহ ১০ শয্যা বিশিষ্ট শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করাসহ ৫ তলা প্রশাসনিক ভবন, ৫ তলা পুরুষ হোস্টেল ভবন, ৩ তলা মহিলা হোস্টেল ভবন, ৪ তলা ডরমেটরী ভবন, ২ তলা ইন্সপেকশন ভবন, ২ তলা সার্ভিস ভবন, ২ তলা ক্যাফটেরিয়া ভবন নির্মান করা হবে বলে একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উলেøখ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ ১০ শয্যার ক্লিনিক্যাল সুবিধায় নির্মিত শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র হতে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন এবং চিত্তবিনোদন ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও জোরদার হবে। তাছাড়া উপজাতীয় পণ্য উৎপাদনের উৎকর্ষত বৃদ্ধিতে এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এতদঅঞ্চলের নারীদের আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।

আজকের একনেক সভায় অনুমোদিত অনান্য প্রকল্পগুলো হলো –
লাঙ্গলবন্দ-কাইকারটেক-নবীগঞ্জ জেলা মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ হতে মিনার বাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ:প্রস্তাবিত সড়কটি দিয়ে প্রতি দিন হাজারো মানুষ শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াত করে। তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের পর সড়কটির গুরুত্ব আরো বেড়ে যাবে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত সড়কের আশেপাশে অনেক শিল্প কারখানা ও জনবসতি গড়ে উঠায় ট্রাফিক মুভমেন্ট অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও এই সড়ক ব্যবহার করে হিন্দু পূণ্যার্থীগণ লাঙ্গলবন্দ অস্টমী স্নান পালন করে থাকে। প্রতি বছর ভারত, নেপাল ও ভুটানের প্রায় ১০ লাখ তীর্থ যাত্রী প্রস্তাবিত সড়ক ব্যবহার করে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীতে স্নান করতে আসে। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ প্রকল্পটি সম্পর্কে বলেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লাঙ্গলবন্দ হিন্দু পূণ্যার্থীগণের জন্য একটি অত্যাধুনিক আন্তর্জতিক তীর্থস্থাণে পরিনত হবে। বিদেশ থেকে আগত তীর্থ যাত্রীরা আকৃষ্ট হবে এবং সংখ্যাও বেড়ে যাবে।
তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়): গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবাপ্রদানের মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন; ৪৯০টি উপজেলায় ৪৯০টি তথ্য কেন্দ্র স্থাপন; তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে এক কোটি গ্রামীণ মহিলাদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা; তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ই-কমার্স সহায়তা প্রদান; ই-লার্নিং পদ্ধতির মাধ্যমে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দল গঠন করা; এবং ওয়েব পোর্টাল, তথ্য ভাণ্ডার, তথ্য আপা আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) টিভির উন্নয়নই হচ্ছে এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ (৩য় পর্যায়): এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১৬৫.২৬ কোটি টাকা। দেশের ৬৪টি জেলার সকল উপজেলা এর আওতাভুক্ত। এ প্রকল্পটি বা¯Íবায়নের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে ডাল, তেল এবং মসলা জাতীয় ফসলের মানসম্মত বীজের সরবরাহ ও ব্যবহার বৃদ্ধি; উন্নত বীজ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডাল, তেল ও মসলা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি; ডাল, তেল ও মসলার দেশীয় ঘাটতি পূরণ তথা আমদানি হ্রাস করা; মানসম্মত বীজ ব্যবস্থাপনা এবং মৌচাষের মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন; ইউনিয়ন ভিত্তিক, বীজ “এসএমই” গঠনের মাধ্যমে মানসম্মত বীজ এবং সেই সাথে উৎপাদন প্রযুক্তি সময়মত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানো; ফসল বিন্যাসে ডাল, তেল ও মসলা জাতীয় ফসল অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং পুনর্গঠন; উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডাল, তেল ও মসলার ব্যবহার বৃদ্ধি করে পুষ্টি ঘাটতি পূরণ; স্বল্প পানি চাহিদা সম্পন্ন ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস করা; যথাযথ পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মৌচাষ সম্পৃক্তকরণ; বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সীর সরাসরি সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে মানসম্মত বীজ উৎপাদন নিশ্চিত করা; বীজ উৎপাদন, ব্যবহারকারী, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী, বীজ উৎপাদনকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা; এবং কৃষি সম্প্রসারণ কাজে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতার উন্নয়ন করা হবে।
আজকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ২৭তম একনেক সভায় মোট ২ হাজার ৭২৩ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা। সভায় নতুন ও সংশোধিত মোট ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় এর মধ্যে জিওবি ১ হাজার ৯২৯ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৯৩ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা।
আজকের একনেক সভায় মন্ত্রীবর্গসহ উবর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মু¯Íফা কামাল একনেক শেষে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।