পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯ বছর

যুগবার্তা ডেস্কঃ আজ সকালে রাজধানীট দি ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কাপেং ফাউন্ডেশনের সদস্য হিরন মিত্র চাকমার সঞ্চালনায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯ বছর: স্থানীয় জনগণের ভূমি অধিকার ও বাস্তনতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের সদস্য ও চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, সাবেক তথ্য কমিশনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম ও এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা । মুক্ত আলেচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য কাফি রতন, নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয়কারী নাদিরা পারভিন, আরডিসির সাধারণ সম্পাদক জান্নাত-এ ফেরদৌসী, বিসিএইচআরডির মাহবুব প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বহুবিধ প্রশাসন ও কর্তৃত্ব চলছে যেটাকে এককথায় অরাজকতা বলা যেতে পারে। সেখানে কোন শৃঙ্খলা নেই। সেখানকার কোন মানুষের নিরাপত্তা নেই। পার্বত্য চুক্তি বিষয়ে সরকারের অনেক কর্তাব্যক্তি, নীতিনির্ধারক মহলের অনেক জন এবং অনেক সংগঠনের অনেক ব্যক্তিরা প্রায় সময়ই খুবই দৃঢ়ভাবে ব্ক্তব্য ও অঙ্গীকার দিয়ে থাকেন। কিন্তু কেন তাহলে গত ১৯ বছর ধরে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি। এই বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকেরা কার্যকর ভূমিকা গ্রহন করেনি। চুক্তির ব্যাপারে নীতি নির্ধারকেরা উগ্র জাতীয়তা, সম্প্রদায়িক, প্রগতি বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ক্রীয়াশীল হওয়ার কারনে আজও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছেনা। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সিভিল ও সামরিক আমলাদের অসহযোগিতা বড় বাধা। সিভিল প্রশাসনকে সহায়তার জন্যে অপারেশন উত্তরণ নামে সেনাবাহিনী সহায়তা করবে। কিন্তু আদতে কি তারা সহায়তা করছে নাকি তারাই সবকিছু করছে। আজকে দেখা যাচ্ছে পাহাড়ে বাঙ্গালি-আদিবাসী সংখ্যা সমান হয়ে গেছে। কিন্তু এত দ্রুত পাহাড়ের এই সংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণ কি? রাজনৈতিক কারণেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন পর্যটনের মধ্য দিয়েও পাহাড়ে আদিবাসীদের জমি দখল হচ্ছে।