পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা করুন-বাদশা

188

যুগবার্তা ডেস্কঃ যুদ্ধাপরাধের বিচারসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও দেশটির কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ক্রমাগত লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন ঘেরাও করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
আজ বুধবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বিপরীতে রাজধানীর ভাটারা থানার সামনে সমাবেশ করে ওয়ার্কার্স পার্টি। এ সমাবেশে পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধের বিচার বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়। আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের উপর তাদের কৃত জঘন্য অপরাধকেই প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিলো। যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান নেতা মৃত্যুদ-প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীকে ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ উপাধি দিয়ে পাকিস্তান মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারী এক ঘৃণ্য অপরাধীর পক্ষ নিলো। পাকিস্তান শুধু এই ঘটনায়ই নয়, বরং এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিশ^ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারী এ জাতীয় অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে কার্যত নিজেকেই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। পাকিস্তান এর আগে ওসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর সহ তালেবান গোষ্ঠীকে নিজ দেশে আশ্রয় দিয়েছে। আজ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা একই অপরাধ করছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী উগ্র সশস্ত্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই কর্তৃক অর্থ, অস্ত্র সহ বিভিন্ন প্রকারে মদদদানের ঘটনা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। আজ এই গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত হয়েছে তুরস্কের ক্ষমতাসীন মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক দল ও তার সরকার। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ান আজ বিশে^র নতুন লাদেন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে দেশের বিরুদ্ধে এসব অপরাধীদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারেও সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা তার বক্তব্যে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিতে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব জনগোষ্ঠীর কাছে আহ্বান জানান।
ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি কমরেড আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড কামরূল আহসান, ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য কমরেড মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, কমরেড ইয়াসিন আলী এমপি, কমরেড শেখ টিপু সুলতান এমপি, ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক কমরেড কিশোর রায় প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে সেখানে পাকিস্তানের পতাকায় অগ্নিসংযোগ করে সন্ত্রাসের প্রতি ধিক্কার ও ঘৃণা জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে পাকিস্তান হাইকমিশন অভিমুখে মিছিল করার কথা থাকলেও কূটনৈতিক এলাকা বিবেচনায় পুলিশের অনুরোধে মিছিলের কর্মসূচি বাতিল করা হয়।