পাঁচ ধাপের ইউপি নির্বাচনে মোট ১১৩ জন প্রাণ হারালেন

46

যুগবার্তা ডেস্কঃব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীতানগরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ
পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ-ইউপি নির্বাচনেও আগের চারধাপের মতো গুলি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অনিয়ম হয়েছে।
ব্যাপক সহিংসতায় চার জেলায় গুলি, টেঁটা এবং সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১১ জন।
এ নিয়ে পাঁচ ধাপের ইউপি নির্বাচনে মোট ১১৩ জন প্রাণ হারালেন।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এ ধাপের নির্বাচনে অন্তত ১১ জন নিহত ও দেশের ৩৫ জেলায় ৩৯ গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ।
নিহতরা হলেন- জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাজেদ (১৪), জিয়াউর রহমান জিয়া (৩০), নুর ইসলাম (৬০) ও আলতাফ (৩২); চট্টগ্রামের পটিয়ায় মোহাম্মদ ইয়াছিন (২৮), মোহাম্মদ হোসেন ও বাবুল শীল (৫৭);নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সৈয়দ আহমেদ (৪০) ও শাকিল আহমেদ, কুমিল্লার তিতাসে কামালউদ্দিন (৫০), যশোরের গৌরীঘোনা ইউনিয়নে মমতাজ সরদার।
এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ে দুই সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হয়েছেন।
এদিকে ভোট গ্রহণের সময় ভোটারদের বাধা, জাল ভোট ও ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে সারা দেশে ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিভিন্ন স্থানে প্রিসাইডিং অফিসার, চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মেম্বার প্রার্থীসহ ১৭ জনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষ ও অনিয়মের কারণে ১২০ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে কমিশন।
নানা অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ৪৫ জন প্রার্থী।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম ধাপে ৭১৭ ইউপিতে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৩২ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩২৫৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৭ হাজারের বেশি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ হাজারের বেশি প্রার্থী রয়েছে।
ইতিমধ্যে ৪১ জন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ওই সব পদ বাদে বাকিগুলোতে নির্বাচন হবে।
এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ ১৫টি দলের প্রার্থী রয়েছে। ২টিতে আওয়ামী লীগ ও ১০০টিতে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, প্রথম চার ধাপের মতোই পঞ্চম ধাপের নির্বাচন উপলক্ষে একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কমপক্ষে ২০ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এবার আইনশৃংখলা বাহিনীকে সতর্কতামূলক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পঞ্চম ধাপের ভোটের তথ্য
পঞ্চম ধাপে ৭১৭ ইউপিতে ভোট হবে। এতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ হাজার ২৫৪ জন। সাধারণ সদস্য পদে ২৭ হাজারের বেশি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ হাজারের বেশি প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে ১৫টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭২৭ জন ও স্বতন্ত্র ১ হাজার ৫২২ জন। দুটিতে আ’লীগের কোনো প্রার্থী নেই। বিএনপির প্রার্থী নেই ১০০ ইউপিতে।
দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছে ৭১৫টিতে ও বিএনপির ৬২৯টিতে। এছাড়া জাতীয় পার্টি ১৭৭টি, জাসদ ২১টি, বিকল্পধারা ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১৩টি, ইসলামী আন্দোলন ১২২টি, জেপি ২টি, ইসলামী ফ্রন্ট ১১টি, এলডিপি ৬টি, সিপিবি ৫টি, জেএসডি ১টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৬টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৭টি এবং অপর একটি দলের ১ ইউপিতে প্রার্থী রয়েছে।
চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৪২ জন ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তফসিল ঘোষণার পর নানা কারণে এ পর্যন্ত ১৪টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এতে ভোটার ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। ভোট কেন্দ্র সাত হাজারের বেশি। নির্বাচনে এক লাখের বেশি ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন।