পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে মেলাতে পারছেনা মালালা

ফজলুল বারীঃ “পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশ থেকে ব্রিটেনের বার্মিংহাম— সন্ত্রাসের অন্ধকার থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে চরম মূল্য চোকাতে হয়েছিল কিশোরী মালালা ইউসুফজাইকে। তবে নিরাশ করেনি পশ্চিমি দুনিয়া। ক্ষতবিক্ষত কিশোরীটিকে সুস্থ পরিবেশে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করেছিল। তবে সেই পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে আজকের ছবিটা মেলাতে পারছেন না ১৯ বছরের মালালা। শরণার্থী নিয়ে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত আহত হয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি জারি করে নিজেই সেকথা জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘‌প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত আঘাত পেয়েছি। অসহায় শিশু, তার বাবা–মায়ের সন্ত্রাসের কবল থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছেন তিনি। আমেরিকায় দুর্গতরা নতুন করে বাঁচার সুযোগ পায় বলেই এতদিন জানতাম। শরণার্থী হোক বা অভিবাসী, সকলকেই জায়গা পেতেন সেখানে। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই আজ আমেরিকা বিশ্ব দরবারে মাথা চুলে দাঁড়িয়েছে। গৌরবময় সেই ইতিহাসকে এভাবে মুছে ফেলায় খুব কষ্ট পাচ্ছি।’‌ আমেরিকায় সিরিয়ার শরণার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে জানিয়েছেন, ‘‌সিরিয়ার অসহায় শিশুগুলির কথা ভেবে একেবারে ভেঙে পড়েছি। বিনা দোষে দীর্ঘ ছ’‌বছর যুদ্ধের অভিশাপে দিন কাটিয়েছে তারা। পড়াশোনা করে সুস্থ জীবনের উদ্দেশে সোমালিয়া থেকে ইয়েমেন, ইজিপ্ট হয়ে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দিয়েছিল আমার এক বন্ধু। সেখানে বসবাসকারী নিজের দিদির আশ্রয়ে থাকার কথা ভেবেছিল। আজ ওর সব স্বপ্ন ভেঙে গেল।’‌ নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই বিভেদ ও বৈষম্যের রাজনীতি করে আসছেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় এলে আমেরিকায় মুসলিম শরণার্থী এবং অভিবাসী প্রবেশে লাগাম টানবেন বলে ফলাও করে জানিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে নাম লেখানোর আটদিনের মধ্যে তা করেও দেখিয়েছেন তিনি। শুক্রবার পেন্টাগনে ‘‌বিদেশি সন্ত্রাসবাদীদের হাত থেকে আমেরিকার নিরাপত্তা’‌ নামের একটি নির্দেশিকা জারি করেন তিনি। তাতে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার মুসলিম শরণার্থীদের প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ইরাক, সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদানের মতো ‘‌উদ্বেগজনক দেশ’‌ থেকে আসা মানুষও আগামী ৯০ দিন আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারবেন না বলে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। “