পল্টন হত্যাকা- দিবসে বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধাঞ্জলী

98

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র নেতৃবৃন্দ বলেছেন, পল্টন হত্যাকান্ডে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই শোষণমুক্ত-শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁরা স্বপ্ন দেখতেন সমাজতান্ত্রিক-সাম্যবাদী সমাজের। তাঁদের স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমেই তাঁদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে। শহীদদের স্বপ্ন পূরণে সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ কায়েম করতে হবে।

আজ ২০ জানুয়ারি, সকাল ১০টায় কমরেড মণি সিংহ সড়কস্থ মুক্তি ভবনের সামনে পল্টনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সিপিবি’র নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও টিইউসি’র সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী, ক্ষেতমজুর সমিতির সাবেক সভাপতি শামছুজ্জামান সেলিম, কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিবি’র ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল ও ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিএম জিলানী শুভ।

সমাবেশে কমরেড সেলিম বলেন, বামপন্থীদের অগ্রযাত্রা থামাতেই সিপিবি’র মহাসমাবেশে বোমা হামলা চালিয়ে নির্মম হত্যাকা- চালানো হয়েছিল। হামলা করে, খুন করে বামপন্থীদের অগ্রযাত্রা থামানো যায় না। তৎকালীন সরকার ও তার পুলিশ বাহিনী এই হত্যাকা-কে কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল। বামপন্থীরা ক্ষমতায় গিয়ে এই হত্যাকা-ের বিচার করবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, পল্টন হত্যাকা-ের বিচারপ্রক্রিয়াকে দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। দায়সারাভাবে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। প্রত্যেক হত্যাকা-েরই বিচার হতে হবে। বোমা হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত সকলের পাশাপাশি, এর নেপথ্যের হোতাদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে।

পুষ্পমাল্য অর্পণ ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর সমবেত কণ্ঠে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল গাওয়া হয়। এরপর পল্টন হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অস্থায়ী শহীদ বেদিতে বিভিন্ন দল, সংগঠনের পুষ্পমাল্য অর্পণ

কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রথমে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণফোরাম, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), ঐক্য ন্যাপ, বাসদ (মার্কসবাদী), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, রণেশ দাশগুপ্ত চলচ্চিত্র সংসদ, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, সাপ্তাহিক একতা, সিপিবি-নারী সেল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সহ বিভিন্ন দল-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সিপিবি’র বিভিন্ন থানা ও শাখার নেতৃবৃন্দ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।