নৌমন্ত্রীর আহ্বানে ধর্মঘট প্রত্যাহার, যান চলাচল শুরু

যুগবার্তা ডেস্ক: দুই বাসচালকের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের করে শ্রমিকদের যানবাহন চালানোর জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের আহবানের পরপরই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে যান চালাচল শুরু করেছেন শ্রমিকরা।

বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মতিঝিলের পরিবহন ভবনের ষষ্ঠ তলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির কার্যালয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি ধর্মঘট প্রত্যাহারের করে যানবাহন চালানোর জন্য আহ্বান জানান।

শাজাহান খান বলেন, ‘শ্রমিকদের এই কর্মসূচি ধর্মঘট ছিল না। এটা ছিল কর্মবিরতি। আদালতের রায়ের পর শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্র ঝুকিপূর্ণ মনে করে এই কর্মবিরতি শুরু করে। আমাদের এই আহ্বানের পর তারা তাদের কর্মস্থলে ফিরে যাবে। আমাদের বিশ্বাস, আমাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে দেশের সর্বত্র সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে।’

তাকের নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কার কর্মসূচি ছিল? সেটা অাপনাদের (বিএনপি) উপর আঘাত আসছে অাপনারা বুঝতেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কোন কর্মসূচি দেই নাই। এটা শ্রমিকদের স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি ছিল।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদেরর দফতরে ধর্মঘটের বিষয়ে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ খান।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এর প্রতিবাদে গত রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেন শ্রমিকেরা। এরপর ঢাকার সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক চালকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পরিবহন শ্রমিকেরা ধর্মঘটের ডাক দেন।

ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গাবতলীতে পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে ৭টি অ্যাম্বুলেন্সে আগুনসহ ২০-৩০টি যানবাহন ভাঙচুর করে পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় তারা পুলিশ বক্স ও রেকারেও আগুন ধরিয়ে দেয়।

বুধবার (০১ মার্চ) আবারও শ্রমিক-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। থেমে থেমে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে শাহিন আলম (৩২) নামে এক বৈশাখী পরিবহনের এক হেলপার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। আহতাবস্থায় তাকে স্থানীয় সেলিনা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীতে বাসের জন্য শত শত নারী-পুরুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে বিফল হয়ে ফিরতে হয়েছে। টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, আরামবাগ, কলাবাগানসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির কাউন্টারের সামনে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। পরিবহন শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে কার্যত সারাদেশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকা।