নুরেমবার্গ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস এ্যাওয়ার্ড শ্রমিক নেতা আমিন

151

যুগবার্তা ডেস্কঃ গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিরুল হক্ আমিন গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১৪- ২০১৫ সালের জন্য জার্মানির “নুরেমবার্গ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পুরস্কার” পেয়েছেন।
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ জার্মানির নুরেমবার্গ শহরের অপেরা হাউজে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমিরুল হক্ আমিনের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। নুরেমবার্গ শহরের লর্ড মেয়র ডঃ উলরিক মালির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জার্মান ভাইস চ্যানসেলার (উপ-প্রধানমন্ত্রী), ইউনেক্সো প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক শ্রম সং¯’া (আই এল ও)এর ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল উপ¯ি’ত ছিলেন ।
তাঁর এ পুরস্কার প্রাপ্তি বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছে। বাংলাদেশের কোন নাগরিক এবারই এ পুরস্কার পেলেন।
১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি ২ বছর অন্তর এই “নুরেমবার্গ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পুরস্কার” প্রদান করা হয়। আমিরুল হক্ আমিন প্রথম বাংলাদেশী এই পুরস্কারে ভূষিত হলেন। তিনি বিশ্বে একমাত্র শ্রমিক নেতা যিনি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় এ পুরস্কার পেলেন ।
১১ সদস্য বিশিষ্ট জুরি বোর্ড আমিরুল হক্ আমিনকে এই পুরস্কারের জন্যে মনোনিত করে। এই জুরি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ২ জন নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত। তারা হলেন ১৯৮০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী ডঃ আডল্ফো স্কুইভেল এবং ২০০৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মিস শিরিন এবাদী। অন্যরা হলেন ইউনেস্কোর ডাইরেক্টর জেনারেল মিস ইরিনা বোকোভা, ইউনিভার্সিটি অফ মেসট্রিক্ট এর আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের প্রফেসর এ্যামেরিটার্স ডঃ থিওভ্যান বোভেন, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলার ও প্রাক্তন মন্ত্রী প্রফেসর ডঃ এইচ সি গারেথ ইভান্স, বেনিনের প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী প্রফেসর ডঃ মরিস গ্লীলি আহানহানজো, ফ্রান্সের বিখ্যাত আইনবিদ মাইতের দানিয়েল জ্যাকোবি, আন্তর্জাতিকভাবে নন্দিত শিল্পি ডেনি কারাভ্যান, ইন্টার এ্যামেরিকান ইনিস্টিটিউটের সভাপতি ডঃ এইস সি সনিয়া পিকাডো এবং নুরেমবার্গ শহরের লর্ড মেয়র ডঃ উলরিক মালি।
যারা এ যাবৎ “নুরেমবার্গ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পুরস্কার ”পেয়েছেন তাঁরা হলেন, ১৯৯৫ সালে রাশিয়ান নাগরিক মি.সার্জেজ কোবালেভ, ১৯৯৭ সালে ইসরায়েলের নাগরিক আবে জে নাথান ও তিউনিশিয়ার নাগরিক কিমাইজ চামারী, ১৯৯৯ সালে মৌরিতানিয়ান নাগরিক এমএস ফাতিমাতা এমভাঈ, ২০০১ সালে মেক্সিকোর নাগরিক বিশপ স্যামুয়েল রুই গার্সিয়া, ২০০৩ সালে পাকিস্তানের নাগরিক আবদুর রেহমান এবং ভারতের নাগরিক তিসতা সিটেলবাত ২০০৫ সালে উজবেকিস্তান নাগরিক মি. তামারা চিকোনোভা , ২০০৭ সালে রুয়ান্ডার নাগরিক মি. ইজিনি মুসাইদিও, ২০০৯ সালে ইরানের নাগরিক আবদল ফাত্তাহ সুলতানি, ২০১১ সালে কলম্বিয়ান নাগরিক মি. হোলমান মরিস এবং ২০১৩ সালে উগান্ডার নাগরিক মি.কাশা জেকুলিন নাভাসিজিরা এবং ২০১৫ সালে বাংলাদেশের শ্রমিক নেতা আমিরুল হক্ আমিন।