নিরব অর্থনৈতিক যুদ্ধে ১০ বছরেই প্রাধান্য হারাবে দুবাই

119

যুগবার্তা ডেস্ক: আগামী ১০ বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্য নগরী দুবাই তার প্রভাব হারিয়ে ফেলবে। এর কারণ হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের গালফ অব ওমানে ‘সাইলেন্ট ইকোনোমিক ওয়ার’ বা নিরব অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এধরনের অর্থনৈতিক যুদ্ধ বা নতুন নতুন মহাপরিকল্পনা সেখানকার অর্থনৈতিক মানচিত্রকেই পাল্টে দেবে।
এধরনের মহাপরিকল্পনার একটি অংশ হচ্ছে পাকিস্তানে গোয়াদার বন্দর সম্প্রসারণ। এ বন্দরটির সম্প্রসারণের মধ্যে দিয়ে বিশাল আকারের বাণিজ্য দুবাইয়ের প্রভাবকে ম্লান করে দেবে। চীনের অর্থায়নে পাকিস্তান গোয়াদার বন্দর সম্প্রসারণে হাত দিয়েছে। এছাড়া কাতার নতুন নতুন বাণিজ্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর নির্মাণের বিকল্প উন্নয়ন নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করছে। ইরানের চবাহারে বিকল্প আরেক নৌ বন্দরের সম্প্রসারণ ঘটছে যা সুয়েজ খালের বিকল্প আন্তর্জাতিক নৌ রুট হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সৌদি আরব লোহিত সাগরে অন্তত ৫০টি দ্বীপে ব্যাপক পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আগাচ্ছে। এধরনের পর্যটন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ও সিল্ক রুটে সংযুক্ত হচ্ছে ইরান। এসব উন্নয়নের যোগফল দুবাইয়ের ওপর এক অবশ্যাম্ভাবী অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করবে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, ওই অঞ্চলের সাম্প্রতিক ভূকৌশলগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা আদতে ‘সাইলেন্ট ইকোনোমিক ওয়ার’এর নামান্তর। চীন, পাকিস্তান ও কাতার গোয়াদার বন্দরকে ঘিরে বিশাল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে যাতে বন্দরটি ট্রানজিট হাব হয়ে ওঠে।
সৌদি আরব একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে ‘টুরিজ্যম পোল’ হয়ে ওঠার বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশটির ২০৩০ ভিশনের অংশ হিসেবেই তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে শুধু যে আমিরাত তার ট্রানজিট ও টুরিজ্যম শক্তি হারাবে তা নয়, বিকল্প জালানির উৎস খুঁজে পেতেও বেগ হতে হবে দেশটিকে।
তবে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে রায় পাওয়ার পর বাংলাদেশের চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ পরিকল্পনা প্রতিবেশী দেশটির অনিচ্ছার কাছে চাপা পড়ে গেছে। এরই মধ্যে শ্রীলংকা ও পাকিস্তানে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ হয়েছে চীনের সহযোগিতায়। চট্টগ্রাম বন্দর আমদানি ও রফতানির পণ্য পরিবহনের চাহিদা মেটাতে যখন হিমশিম খাচ্ছে তখন তাতে সুবিধা নিচ্ছে ভারত। অথচ নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ কবে আলোর মুখ দেখবে তা কেউ বলতে পারছে না।-আমাদের সময়.কম