নিপাহ ভাইরাসের প্রকট বেড়েছে, নিহত ২

117

যুগবার্তা ডেস্কঃ চলতি শীত মৌসুমে বাদুরবাহী নিপাহ ভাইরাসের ছোবলে রাজশাহীতে দুজনের মৃত্যু ঘটেছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর)। আক্রান্ত রাজশাহীর আরো ১জন ও রংপুরের ২জন সুস্থতার পথে হলেও পর্যবেক্ষণে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইইডিসিআরের পরিচালক মাহমুদুর রহমান আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার খুব বেশি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে খেজুরের কাঁচা রসই এ ভাইরাসের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। খেজুরের কাঁচা রসে ভাইরাসটি ছড়ায় বাদুড় থেকে।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়। এ থেকে বাঁচার উপায় খেজুরের কাঁচা রস পান সম্পূর্ণ বর্জন করা। এই ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়ায়। সহজেই আক্রান্ত একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষ এতে আক্রান্ত হয়। নিপাহ আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ সন্তানকে পান করালে সন্তানও আক্রান্ত হয়।’
২০১৪ সালের জুন আইইডিসিআর মোবাইল ফোন সার্ভিল্যান্স পরিচালনা করে। ৩ হাজার ২৯৭ জনের কাছে প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্ন করেন সেসময় তারা খেজুরের কাঁচা রস পান করেছেন কি-না। ৯৫১জনের (২৮ দশমিক ৮ শতাংশ) উত্তর ছিল হ্যাঁ বোধক। ২০১৫ সালের জুলাইয়েও এ সার্ভিল্যান্স করা হয়। এসময় ৩ হাজার ৫১৮জনের মধ্যে ৮২০জনের (২৩ দশমিক ৩ শতাংশ) উত্তর ছিল হ্যাঁ বোধক।
বিষয়টিকে ভয়াবহ হিসেবে আখ্যা দেন মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর সম্ভবনা খুবই বেশি, ছোঁয়াচে। তারপরও মানুষ খেঁজুরের কাঁচা রস পান করছে। এটা খুব ভয়ের ব্যাপার। অনেক সময় বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানে ঐতিহ্য হিসেবে খেজুরের কাঁচা রস পানের ব্যবস্থা থাকে। তবে এটা সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিৎ।
মাহমুদুর রহমান বলেন, খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে খেলে বা গুড় খেলে কোনো ভয় নেই। ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই ভাইরাস ধ্বংস হয়। কাঁচা খেজুরের রস হাতে স্পর্শ করলে হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভাইরাস সংক্রমণের ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর লক্ষণগুলো হচ্ছে, জ্বর, মাথাব্যথা, ঝিমুনি, কাশি, কোনও কোনও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দেয়। এমনকি খিঁচুনি ও অজ্ঞানও হয়ে যায়।

২০১২ সালে আইইডিসিআরের বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, বাংলাদেশে এ ভাইরাস বহন করছে বাদুড়। খেজুরের রস খাওয়ার সময় বাদুড়ের মুখ থেকে এই ভাইরাস রসে যায়। সেই রস খেলে মানুষ আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে এই ভাইরাসে মানুষ প্রথম আক্রান্ত হয় ২০০১ সালে কুষ্টিয়ায়।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বে সর্বপ্রথম ‘নিপাহ’ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটে মালয়েশিয়ায়, ১৯৯৮ সালে। ওই দেশের কামপুং সুগনাই ‘নিপাহ’ নামক স্থানে পাওয়া গেছে বলে এ ভাইরাসের নামকরণ করা হয় ‘নিপাহ’ ভাইরাস।রিকু আমির ,আমাদের সময়.কম