নিজামীর ফাঁসি বহাল

34

যুগবার্তা ডেস্কঃ একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) এর আদেশ খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। নিজামীর ফাঁসি কার্যকর আর বাধা নেই। এখন তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন। আর প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে যে কোন সময় ফাঁসি কার্যকর করবে সরকার।
৩ মে রিভিউ আবেদনের ওপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ রায়ের জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনিই প্রথম যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার যুক্তি উপস্থাপন করেন।
নিজামীর বিষয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, একাত্তরের যুদ্ধের সময় মতিউর রহমান নিজামী পাকিস্তানের রাজনৈতিক সমর্থক ছিল। হিটলারের যুদ্ধের সময় একজন রেজিস্ট্রারের নাম পাওয়ায় তাকেও মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছিল। তাহলে তাকে (নিজামী) নয় কেন? মঙ্গলবার মতিউর রহমান নিজামীর দন্ড থেকে খালাস চেয়ে করা রিভিউ আবেদনের শুনানি চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বিচারে অভিযুক্তের মানবাধিকার যাতে ক্ষুন্ন না হয় এবং অভিযুক্ত যাতে আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয় নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে রিভিউ শুনানিতে নিজামীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী আল বদরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তিনি ছাত্রসংঘের নেতা ছিলেন এবং পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন করতেন।
নিজামীর মৃত্যুদন্ড রিভিউ রায়েও বহাল থাকলে যুদ্ধাপরাধী নিজামী শেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। এর আগে যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লা ও মো. কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন একদিনের মধ্যে শুনানি শেষে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তারা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাননি। পরে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। এরপর যুদ্ধাপরাধের দায়ে গত বছর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মৃত্যুদন্ডও কার্যকর করা হয়। তারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করলেও রাষ্ট্রপতি তা নাকচ করে দেন। নিয়ম অনুযায়ী, রিভিউ নিষ্পত্তির আগে দন্ড কার্যকর করা যাবে না। রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে সেই রায়ের অনুলিপি কারাগারে যাবে এবং কারাকর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-াদেশের রায় ঘোষণা করেন। চলতি বছর ৬ জানুয়ারি আপিল আংশিক মঞ্জুর করে সেই ফাঁসির রায়ই বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত। ১৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করলে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন এবং পরদিন তা পড়ে শোনানো হয় যুদ্ধাপরাধী নিজামীকে। এরপর ২৯ মার্চ আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন নিজামী।
এর আগে ১৫ মার্চ নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ৬ জানুয়ারি বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনাকারী ও উসকানিদাতাসহ মানবতাবিরোধী তিন অপরাধের দায়ে নিজামীর মৃত্যুদন্ডাদেশের রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ।