নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের জন্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে

যুগবার্তা ডেস্কঃ সোমবার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘নারী ও কিশোরীদের প্রতি সহিংসতা নিরসনে নিরাপদ স্কুল ও নিরাপদ সমাজ’ শীর্ষক জাতীয় পর্যায়ে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপিএস-এর সমন্বয়কারী ফয়সাল বিন মজিদ। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনওমেন-এর দেশীয় প্রতিনিধি ক্রিস্টিন হান্টার, টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রিন্সিপাল স্বপন কুমার ঢালি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শাহনওয়াজ দিলরুবা খান এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর সদস্য মো: মশিউজ্জামান।
আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর সালমা আখতার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর সুফিয়া বেগম, নায়েম-এর উপ-পরিচালক রিয়াদ চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ফারহানা হক, ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমান, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মহসীন রেজা, বিএনপিএস’র উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমী, রায়েরবাজার স্কুলের শিক্ষার্থী কান্তা মাহজাবীন প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা গণতন্ত্র, নারী-পুরুষ সমতা ও মানবাধিকারের অন্তরায়। তাই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নির্যাতিত হবে এটা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে সরকার এবিষয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পাঠ্যসূচিতে এসংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয় অন্তভুর্ক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রত্যেক স্কুলে কাউন্সিলিং ও নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি ক্রিস্টিন হান্টার বলেন, নারীরা ঘরে-বাইরে যৌন নির্যাতনসহ নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির কারণে কারণে তাদের স্বাভাবিক বিকাশও ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার নারীরা বিচার চেয়েও বিচার পাচ্ছে না, এতে করে নির্যাতনকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে। তাই নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরী। তিনি যৌন নির্যাতন বন্ধে হাই কোর্টের দেওয়া নির্দেশনা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মেনে চলার আহ্বান জানান।
নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বেড়েছে উলেøখ করে সরকারী কর্মকর্তা শাহনওয়াজ দিলরুবা খান বলেন, এখন উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, সচেতনতার সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতনের প্রকটতা, ধরন ও সংখ্যা বেড়ে গেছে। তাই নারীদের আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে হবে। জুড়ো-ক্যারাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে রোকেয়া কবীর বলেন, নারী নির্যাতন বন্ধে পরিবার থেকে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে আরো জেন্ডার সংবেদনশীল করতে হবে। আর জেন্ডারসংবেদনশীলতা বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সনদ ও নারী-পুরুষ সমতার সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতা সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।
মূল প্রবন্ধে ফয়সাল বিন মজিদ বলেন, বিএনপিএস গত তিন বছর ধরে ইউএন ট্রাস্ট ফান্ডের সহায়তায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, নেত্রকোনা ও কুষ্টিয়ার ৮০টি স্কুলে নিরাপদ স্কুল নিরাপদ সমাজ’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের শুরুতে পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, অর্ধেকেরও বেশি মেয়েশিক্ষার্থী তাদের স্কুল, স্কুলে আসা-যাওয়ার পথ, কোচিং সেন্টার এবং স্কুল সংলগ্ন এলাকাসমূহ তাদের জন্য নিরাপদ নয় বলে মনে করে। এরপর বিএনপিএস মেয়েশিক্ষার্থীদের তথ্যগতভাবে ক্ষমতায়িত করার পাশাপাশি স্কুল ও কমিউনিটিকে সহিংসতা ও নির্যাতনমুক্ত করে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এপ্রকল্পের আওতায় নারী শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর জন্য আত্মরক্ষমূলক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।