নারায়ণগঞ্জে নিহত একজন রাজশাহীর তাওসিফ

27

রাজশাহী অফিসঃ নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত তিন জঙ্গির একজন রাজশাহীর তাওসিফ হোসেন। তার বাবার নাম ডা. আজমল হোসেন। রাজশাহী মহানগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকায়। তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় কমান্ডো অভিযানে নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলামের বন্ধু ছিলেন তাওসিফ। নিবরাসের সঙ্গে একই দিন তিনিও রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। দু’জনে মালয়েশিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেছেন। এর আগে ম্যাপল লিফ নামে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল শেষ করেন তাওসিফ।

র‌্যাবের সর্বশেষ হালনাগাদ জঙ্গি তালিকায় তাওসিফ ছিলেন ৭ নম্বরে। তিনি গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানায় ওইদিনই একটি জিডিও (নং ১৪৩)দায়ের করা হয়েছিল। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে আইএস এর একটি ভিডিওতে। গুলশান হামলার পর গত ৬ জুলাই ওই ভিডিও প্রকাশ করেছিলো মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক এ জঙ্গি সংগঠনটি। ওই ভিডিওতে মুখ ঢাকা অবস্থায় ছিলেন তাওসিফ হোসেন।

এদিকে, রাজশাহী নগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকাবাসী তাওসিফ হোসেন ও তার পরিবার সম্পর্কে বেশি কিছু জানাতে পারেননি। তাদের ভাষ্য, ওই পরিবারটি অনেক আগে থেকেই ঢাকায় বসবাসরত। তাওসিফ হোসেন ঢাকার আইবিএ বিজনেস স্কুলের ছাত্র ছিলেন।

তবে পড়া পুরো শেষ না করেই মাঝপথে ছেড়ে দেন। জেএমবি সংশ্লি¬ষ্টতার অভিযোগে এর আগে গ্রেফতারও হয়েছিলেন এ যুবক। পরে ছাড়া পেলে তাকে পড়াশোনার জন্য মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেয় পরিবার। সেখান থেকেও নিখোঁজ হন তাওসিফ।

এদিকে, গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, নারায়নগঞ্জে নিহত জঙ্গি তাওসিফ হোসেন ও ফজলে রাব্বি একাধারে জঙ্গি ও উগ্রপন্থিদের ‘বড় ভাই’হিসেবে পরিচিত তামিমের ‘দেহরক্ষী’। তবে তাদের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে সংরক্ষিত আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নব্য জেএমবির মূল সমন্বয়ক গুলশান হামলার ‘হোতা’ তামিম চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হন। ‘অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’ নামে এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের সোয়াট টিম।