নববর্ষে প্রাণের উচ্ছাস রাজশাহীতে

54

রাজশাহী অফিসঃ বর্ণিল আয়োজনে রাজশাহীর সর্বত্র আনন্দমুখর পরিবেশের বাংলা নতুন বছরকে বরণ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নেচে-গেয়ে প্রাণের উৎসবে মেতেছেন রাজশাহীবাসী। বৈশাখের ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মঙ্গল শোভাযাত্রায় শামিল হন বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে একটি শোভাযাত্রা নগরীর কলেজিয়েট গভর্মেন্ট স্কুল থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে এ মাঠে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সার্বজনীন এই উৎসবে সবার মধ্যেই ছিলো সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদকে রুখে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।

বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ কে বরণ করতে রাজশাহী মহানগরীজুড়ে অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাঙালি উৎসবের আমেজ লক্ষ্যনীয়। বৈশাখের খরতাপ উপেক্ষা করে বর্ষবরণে মেতে উঠেছেন রাজশাহীবাসী। সাদা আর লাল রঙের আলোকচ্ছটায় রঙিন হয়ে উঠেছে যান্ত্রিক নগরজীবন। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র আর ভুভুজেলার বেসুরে মেতেছেন নগরবাসী।

নববর্ষ উপলক্ষে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটও নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। এতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন, মোশারফ হোসেন আখুঞ্জি, রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, সমাজসেবী শাহীন আক্তার রেণী ও শিক্ষাবিদ শফিকুর রহমান বাদশাসহ সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

ভোরে সূর্যদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহানগরীর পদ্মা পাড়ের ফুদকিপাড়ার উন্মুক্ত মঞ্চে শুরু হয়েছে বাংলা বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। সেখানে আয়োজন করা হয় পান্তা উৎসব। রাজশাহী জেলা পরিষদ কার্যালয়েও চলছে পান্তা উৎসব। তবে পান্তায় এবার নেই ইলিশের উপস্থিতি। নববর্ষ উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের বাংলোর পেছনের মাঠে চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে পদ্মাতীরে শুরু হয়েছে সাত দিনের বৈশাখী মেলা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই প্রাণের উৎসবকে ঘিরে নাটক, কবিতা, নৃত্য, আবৃত্তি ও সংগীতের আয়োজন করা হয়েছে। রাবির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সংগঠন তাদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে নানা বৈচিত্রের সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়। রাজশাহীতে পহেলা বৈশাখের মূল আকর্ষণ এখন রাবির চারুকলা বিভাগকে ঘিরে। চারুকলা বিভাগকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও (রুয়েট) মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে। এছাড়া সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক ও লোকজ সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। রাজশাহী কলেজ থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। জেলার সব উপজেলায় পৃথকভাবে নববর্ষকে বরণ করা হচ্ছে নিজস্ব স্বকিয়তায়।
এ দিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, সব সরকারি হাসপাতাল ও শিশু পরিবার এবং শিশু সদনে উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালী খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশু পরিবারে শিশুদের নিয়ে চলছে ঐতিহ্যবাহী বাঙালী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কারাবন্দীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে কারাগারে।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ পাঠকদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। রাজশাহী বিভাগীয় গ্রন্থাগারেও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর কালচারাল ইনস্টিটিউট তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

নববর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দর্শনার্থীরা টিকিট ছাড়াই ঢুকতে পারছেন বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, শহীদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও জিয়া পার্কে। তাই অন্যান্য দিনের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। এসব স্থান ছাড়াও নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সবাই মেতেছেন প্রাণের উৎসবে।