‘নতুন দিগন্তে চীন-বাংলাদেশ’

যুগবার্তা ডেস্কঃ চীনের প্রেসিডেন্টের ‘ঐতিহাসিক’ বাংলাদেশ সফরে ‘সফল’ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মধ‌্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ‘নতুন দিগন্ত’ উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব‌্য করেছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।
শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব এ কথা বলেন।
সচিব বলেন, শি জিনপিংয়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে চীন ও বাংলাদেশের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ‘কৌশলগত সম্পর্কে’ উন্নীত হয়েছে।
সচিব জানান, সহযোগিতা এগিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের সরকারের মধ‌্যে ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক এবং ১২টি ঋণ ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে।
তবে ঋণ চুক্তির আর্থিক পরিমাণ ও বিস্তারিত জানতে কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
‘সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে’ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ‘সফল’ হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, “চীনের রাষ্ট্রপতির সফর ঐতিহাসিক, দুই দেশের মধ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
“দুই দেশের সম্পর্কে বহুমাত্রিকতা আরও বিস্তৃত ও গভীর হবে, ব্যাপ্তি বাড়বে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ট ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এখন কৌশলগত সম্পর্কে উন্নীত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আমরা সম্পর্কের নতুন অবয়ব দেখব।”
১৯৮৬ সালে লি শিয়ানইয়ানের পর বাংলাদেশে আসা প্রথম চীনা রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং। ‘ওয়ান-বেল্ট, ওয়ান রোড’ নীতি ধরে এগিয়ে যাওয়া চীনের সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তার এই ঢাকা সফর।
বৈঠকে উঠে আসা বিষয়গুলোর ‘রাজনৈতিক দিক রয়েছে’ মন্তব্য করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আগামীতে বিভিন্ন পর্যায়ে দুই দেশের সফর দেখা যাবে।
“ট্রেড ও ইনভেসমেন্টে নতুন ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছে। আইসিটিতে নতুন ফ্রেমওয়ার্কের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।”
শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ও পাটে বিনিয়োগের ইংগিত দিয়েছে চীন। উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, “নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ যে উন্নয়ন করেছে সেখান থেকে চীনের অনেক কিছু শেখার রয়েছে।”
দুই নেতা জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে একসঙ্গে কাজ করতেও একমত হয়েছেন বলে পররাষ্ট্র সচিব জানান।
তিনি বলেন, “ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ও তথ্য আদান-প্রদানে এমওইউ হয়েছে।”
শি জিনপিং বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
রাষ্ট্রীয় এই অতিথিকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ‌্যমে স্বাগত জানানো হয়। লাল গালিচা সংবর্ধনার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল তাকে গার্ড অফ অনার দেয়।
১৩ সদস‌্যরে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকা এসেছেন শি, যে দলে ক্ষমতানীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন