ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’, ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

যুগবার্তা ডেস্কঃ তীব্র তাপপ্রবাহের পরে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্রগ্রাম-মোংলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে ‘মোরা’।
এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মঙ্গলবার (৩০ মে) দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এসময় ঝড়টির গতিবেগ ৮৮ কিলোমিটার বা তারও বেশি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া এর প্রভাবে ১৫০মিলি মিটার বা (৬ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, উপকূল অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সোমবার (২৯ মে) সাকল ৬ টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিলো। এবং এটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি তীব্র ঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘন্টায় ৮৯ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। যা ঘন্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মোরা এখন পর্যন্ত একটি মাঝারি ধরণের ঘূর্ণিঝড়। তবে যেহেতু এটি সমুদ্রে অবস্থান করছে ফলে সন্ধ্যা নাগাদ এর শক্তি বেড়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মধ্য-বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার রাত ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। আগামী ছয় ঘণ্টায় এটি আরো তীব্র রূপ নিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে।-আমাদের সময়.কম