ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ

77

যুগবার্তা ডেস্কঃ ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ। তাই ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা। গ্যাস অনুসন্ধানে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না দাবি করে জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থলভাগ এবং বঙ্গোপসাগরে খুব দ্রুত গ্যাস অনুসন্ধান চালাতে হবে।
একই সাথে ভবিষ্যৎ ঘাটতি মোকাবেলায় সরকারকে রাজনৈতিক সদি”ছার পরিচয় দিয়ে, অনুসন্ধান ব্যবস্থাপনার ত্রুটি দূর করার তাগিদও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস, ২০১৮ সালের মধ্যে আমদানিকৃত খঘএ দেশে এলে সংকট কেটে যাবে অনেকাংশেই।
জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে কারিগরি জটিলতার কবলে ভয়াবহ দুর্ভোগে দিনে কেটেছে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারকারী নগরবাসীদের। অবস্থা এতোটাই নাজুক ছিলো যে নাওয়া-খাওয়াও বন্ধ হচ্ছিলো প্রায়। কারিগরি জটিলতায় গ্যাস সংকটের ঐ ক’দিন প্রায় প্রত্যেকটি খাতেই থমকে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ। যদিও , উৎপাদন হয়েছে যথারীতি।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে- দেশের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ২৭.১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট ধরে এরই মধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে ১৪.০৩২ টিসিএফ। মজুদ আছে আর মাত্র ১৪.০৮৮ টিসিএফ। দেশে ঘন-ঘন গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন- নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান না করে সীমিত মজুদ থেকে অধিক ব্যবহারেই ঘনীভূত হচ্ছে জটিলতা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বাপেক্স যে অনুসন্ধান করেছে সেটি খুবই নগণ্য। গ্যাস অনুসন্ধান বলতে যা বোঝায় প্রকৃতপক্ষে তা হয় নি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, বঙ্গোপসাগরে যে গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়া তা অত্যন্ত ধীর গতিতে হচ্ছে।
তাদের মতে- ভবিষ্যৎ উন্নয়ন বিবেচনায় দ্রুত বঙ্গোপসাগরে এবং স্থলভাগে অনুসন্ধান চালানোর পাশাপাশি প্রয়োজন- রাজনৈতিক সদি”ছা ও স্ব”ছতা। তবে, গ্যাসের তীব্র সংকট দূর হতে দেশবাসীকে আরো বছর দু’য়েক অপেক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। গ্যাসের অবস্থার উন্নতির জন্য আমরা তিন ধরণের প্রকল্প হাতে নিয়েছি।’
এছাড়াও, আগামীতে দেশে আবাসিক গ্রাহকদের এলপিজি বা বোতলজাত গ্যাস ব্যবহারের চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনাও তৈরি হয়েছে বলে জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।হোসেন ,আমাদের সময়.কম