ধারদেনা শোধ হোক তারপর তেলের দাম কমানোর চিন্তা: প্রধানমন্ত্রী

79

যুগবার্তা ডেস্কঃ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও না কমানোর সিদ্ধান্তে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতোদিন ভর্তুকি দিতে গিয়ে যে ধারদেনা হয়ে গেছে সেসব পরিশোধ হওয়ার পর এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আলী আযমের পৃথক দুইটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান।
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দর বেড়ে ১২২ ডলারে ওঠার পর বাংলাদেশেও দাম বাড়ানো হয়। সেই হারে বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৬ টাকা, কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এরপর গত দুই বছর ধরে জ্বালানি তেলের দাম পড়তে পড়তে ৪০ ডলারের নিচে নামলেও দাম সমন্বয় করেনি সরকার।
তেলের দাম না কমানোর পক্ষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) এতদিনের লোকসান তুলে আনার যুক্তি সরকারের পক্ষ থেকে দেখানো হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘যখন বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম অতিরিক্ত ছিল, তখন আমরা সাবসিডি (ভর্তুকি) দিয়ে ডিজেল বিক্রি করেছি। যার ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) হাজার হাজার কোটি টাকা লোন হয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে লোন নেয়া হয়েছে। যখন বিশ্ব বাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছিল, তখন কিন্তু মাননীয় সংসদ সদস্যরা বলেননি আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে আমরাও বাড়াই। বরং দুই এক টাকা বাড়াইলে স্ট্রাইক, ভাঙচুর অনেক কিছুই করে। এখন লোন, ট্যাক্স, ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এখন ১৫ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ধারদেনা পরিশোধ করার পর তখন হয়তো কমানোর কথা বিবেচনা করা যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগের জন্য বিশ্বের বড় বড় দেশ লাইন দিচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছি, তাই বিনিয়োগও আসছে। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশই উপযুক্ত জায়গা। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। জাপান, চায়না, ভারত থেকে শুরু করে কোরিয়া সবাই বিনিয়োগ করছে। জাপান ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বড় বড় দেশ লাইন দিচ্ছে বিনিয়োগ করার জন্য।’
হাজী সেলিমের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না মাননীয় সংসদ সদস্য কোথায় পেলেন বিনিয়োগ হচ্ছে না। মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ডিজেলের দাম কমছে না কেন? আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে, আমরাও বাড়াই।’