Home সারাদেশ ধর্ষণের শিকার আদিবাসী নারী, ফিরে পেল তার পরিবার

ধর্ষণের শিকার আদিবাসী নারী, ফিরে পেল তার পরিবার

18

রাজশাহী অফিস: নিখোঁজ হওয়ার ২১তম দিনে পরিবারের হাতে পৌঁছে দিতে পেরেছি সাগরীকে। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশের মতন নয়। শেষ অব্দি নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজকের এই চুড়ান্ত বিজয়ে আন্দোলনের সাথে জড়িত সকলকে রক্তিম শুভেচ্ছা ও বিপ্লবী অভিনন্দন! শোষিত মানুষের দাবী আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে জানান বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতা রাকিন আবসার অর্ণব। গত ১৩ মার্চ রাজশাহীর শাহ মুখদ্দুম থানার পবা নতুন পাড়া থেকে সকালে অপহরণের শিকার হন সেই গ্রামের মেয়ে সাগরি (৩৪) । পরিকল্পিত ভাবে আদিবাসী মেয়ে সাগরীকে ১৩ তারিখে আমেনা নামের একজন ঘটক রিক্সায় করে নিয়ে যায় জিরো পয়েন্টের (রাজশাহী) কোন একটি হোটেলে । সেখানে অপেক্ষায় থাকে সুনীল চন্দ্র শীল (৫২)। পরে সেই অসহায় নারী সাগরীকে হোটেলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে রাত্রি যাপন করে (ধর্ষণকারী)। পরের দিন সকালে সুনীল চন্দ্র শীল (৫২) (ধর্ষণকারী) সাগরীকে ভুলিয়ে ভালিয়ে বাগমারা বিলশনি গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এর পর প্রায় ১৬দিন তার সাথে বিয়ের নাটক করে। পরে বিষয়টি শাহ মুখদ্দুম থানার ওসি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিয়ে প্রশাসনের তৎপরতায় গতকাল ১ এপ্রিল আদিবাসী মেয়ে সাগরী (৩৪) কে উদ্ধার করে শাহ মুখদ্দুম থানায় আনে। বিষয়টি নিয়ে শাহ মুখদ্দুম থানার অফিসার ইনচার্জ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদিবাসী নারী সাগরীর মানুষিক ভাবে অসুস্থ। তবে আমরা সাগরী ও সুনীলের সাথে কথা বলে যেটি পেয়েছি, সাগরী নিজ ইচ্ছায় ওই লোকের সাথে চলে গেছে। এমনকি সেই লোকের সাথে নাকি মন্দিরে বিয়ে হয়েছে। তবে আমরা কোন কাগজ পত্র পাইনি। ঘটনাটি নিয়ে দৈনিক উপচার টিম তদন্তে গেলে গ্রামের মানুষের মুখে ও পরিবারের মানুষের কাছে উঠে আসে নতুন একটি ঘটনা। গ্রামের মানুষ বলছে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এই লোককে আমরা কোনদিন এলাকায় দেখিনি। তবে প্রশাসন কিভাবে আমাদের বলে যে আমারা নাকি ওই লোকের সাথে পূর্ব পরিচিত ? গল্পের সুত্র ধরে আশেপাশের আরো কয়েকজনকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেড়িয়ে আসে আরো কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পরিবার ও গ্রামবাসী বলছে সাগরী হারিয়ে যাবার ৩দিন পর ওই লোক ছদ্দবেশে এলাকায় আসে এবং স্থানী কয়েকজনকে ও তার বোন মুক্তিকে জিজ্ঞাসা করে যে মদ (দেশীয়) পাওয়া যাবে কিনা? এরপর গল্পে গল্পে কৌশলে তার বোন সাগরীর বিস্তারিত তথ্য নিতে থাকে যে তারা বিষয়টি নিয়ে কোন কিছু করছে কি না? পরবর্তীতে সেই ছদ্দবেশী সুনীল চন্দ্র শিল (৫২) (ধর্ষকারী) তার বোনের মোবাইল নম্বর নেয় এবং তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন যদি নিখোঁজ সাগরীর সন্ধান পাওয়া যায় তাবে তাদের জানাবে বলে সেখান থেকে লাপাত্ত্বা হয়ে যায়। পরে গতকাল তাদের যে থানায় আনা হয় এর পর সমাধান করার জন্য প্রশাসন একটি জিডি করে ও তাদের কোর্টে চিফ ম্যাট্রপলিটন ম্যাজিট্রেটের কাছে পাঠিয়ে দেয় জিম্মায় দেয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে দৈনিক উপচার টিম খুঁজে পাই সেই ধর্ষণকারীকে। দেখা মিলেছে কোর্টে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন উকিলের হাত পা ধরছে যেন সে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পারে। এদিকে ছদ্মবেশী ধরে টিম উপচার পিছু নেয় ঘটনার আদ্দপান্ত জানার জন্য । পরে কেঁচো খুড়তে গিয়ে বেড়িয়ে আসে সাপ। হাতে নাতে পেয়ে যায় সেই ছদ্দবেশি ধর্ষণকারীকে উকিলকে এই ঘটনার ইতি টানার জন্য । পরে লোকটিকে টিম উপচার জিজ্ঞাসা বাদ করলে লোকটি বলে, তার পূর্বে ৩জন স্ত্রী ছিল। তবে তারা তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন সে এই আদিবাসী মেয়ে সাগরীকে (৩৪) কালিমন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেছে।পরে বিষয়টির সত্যতা জানার জন্য প্রমান চাইলে তিনি সেটি দিতে ব্যর্থ হন। এবং তার সাথে ঘটক হিসেবে সহযোগিতা করেছে আমেনা নামের একজন নারী যার বাড়ি নাকি ভূগরুইলে। প্রসঙ্গত, বিষয়টি নিয়ে সাগরীকে দৈনিক উপচার জিজ্ঞাসা বাদ করলে তিনি বলেন, সুনীল চন্দ্র শীল (৫২) তাকে জোর করে আমেনার মাধ্যমে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এবং তার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে ও তার গায়ে হাত তুলে। এমনকি তাকে ঔষধ খাইয়ে রাখে। তবে কি ঔষুধ হয় সেটি সে ঠিক ভাবে বলতে পারছে না। পরবর্তীতে আরো জানতে বিষয়টি নিয়ে দৈনিক উপচার পরিবারের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমার মেয়েকে সুনীল ও আমেনা অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমার মেয়ে সরল সহজ এবং মানুষিক ভাবে ভারসাম্যহীণ । তাকে এভাবে মিথ্যা বলে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে গিয়ে ২০দিন ধরে ধর্ষণ করেছে। আমরা আদিবাসী সংখ্যালঘু বলে কি এর বিচার পাবো না ? আমরা এর বিচার চাই। আমার মেয়ে যে সন্মান সে নষ্ট করলো তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। সাগরীর হারিয়ে যাবার পর রাজশাহীর সুশীল সমাজ, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জিরো পয়েন্টে তাকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করে এবং যারা এর সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানায়। তারা বলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সাথে এমন ঘটনা খুবই হতাসা জনক। যেখানে রাষ্ট্র এই মানুষদের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে তাদের এমন ঘটনার পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ফোন নাই বলে এটা মেনে নেয়া যায় না।