দেশে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করেছেন -খালেদা জিয়া।

115

দেশে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন সরকারের নির্দেশেই গুমের ঘটনাগুলো ঘটেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে নিজের কার্যালয়ে দলের নিখোঁজ নেতা-কর্মীদের স্বজনদের সহমর্মিতা জানাতে বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া এই অভিযোগ করেন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘অনন্ত অপেক্ষা’ শিরোনামে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নিখোঁজ হওয়া ২৬ নেতা-কর্মীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘গুম’ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর ‘অনন্ত অপেক্ষা’ নামে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার কোনো দিনও এসব তদন্ত করবে না। এদের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত হবে না। তাই জাতিসংঘের অধীনে, দেশের নিরপেক্ষ লোকজনকে নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানান তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস ও গুম-খুনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা জানি, সরকারের নির্দেশ-আদেশ ছাড়া এসব কাজ র্যাব-পুলিশ করতে পারে না।’
খালেদা জিয়া বলেন, যারা গুম-খুনে জড়িত, একদিন তাদের বিচার হবেই। এখন সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া বিএনপিরও তেমন কিছু করার নেই—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না আমরা কী রকম থাকব, কখন গুম-খুন হয়ে যাব না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
নিখোঁজ পরিবারের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী শাহনাজ আখতার, সাজেদুল ইসলামের বড় বোন মারুফা ইসলাম যুবদলের ইকবাল মাহমুদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, স্বেচ্ছাসেবক দলের এ এম আদনান চৌধুরীর বাবা রুহুল আমিন চৌধুরী, ছাত্রদলের নিজামুদ্দিনের বাবা শামসুদ্দিন, মাহবুব হাসানের স্ত্রী তানজিনা আখতার, খালিদ হাসানের স্ত্রী সৈয়দা শাম্মী সুলতানা, মাহফুজুর রহমানের বাবা শামসুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন