দেশে ফেরত হাজিদের পদে পদে দুর্ভোগ

104

দু-দুটি দুর্ঘটনার শিহরিত স্মৃতি নিয়ে হজ করে ফেরত আসা বাংলাদেশি হাজিদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। পদে পদে তাদেরকে ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। এই ভোগান্তি আর দুর্ভোগ জেদ্দা থেকেই শুরু। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফিরতি হজ ফ্লাইটের শিডিউলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ কারণে জেদ্দার বাদশা আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হজ টার্মিনালে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি হাজিরা। গত সোমবার হজ ফেরত যাত্রা শুরুর পর থেকে ফ্লাইটে দেরি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে আসছিলেন হাজিরা। এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে লাগেজ না পাওয়ার বিড়ম্বনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমানের বুধবারের দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের বিজি ৪০১৮ ফ্লাইটটি ১ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা পর্যন্তও ঢাকার উদ্দেশে জেদ্দা ছেড়ে যায়নি। ছেড়ে যায়নি সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের বিজি ৬০১৮ ফ্লাইটটিও। এ কারণে দুটি ফ্লাইটের ৮৪০ জন যাত্রী ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে জেদ্দা হজ টার্মিনালে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন হাজি জানান, একদিনেরও বেশি সময় এভাবে খোলা আকাশের নিচে ক্যাম্পে অবস্থানের ফলে অবর্ণনীয় কষ্ট করতে হচ্ছে তাদের। পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় হাজিদের অনেকে অভুক্তও থাকছেন।
এ বিষয়ে বারবার বিমান সংশ্লিষ্টদের জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগী হাজি মোজাম্মেল হোসেন।
বিজি ৪০১৮ ফ্লাইটের ইমরান নামে এক যাত্রী জানান, অনেক কথা কাটাকাটির পর একটু আগে আমাদের জেদ্দার একটি হোটেলে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে ফ্লাইট কখন ছাড়বে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ফেরত আসা কয়েকজন হাজি লাগেজ না পাওয়ার কথা জানান। বেলা সাড়ে ১২টার কিছু পরে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর পটুয়াখালীর নজরুল ইসলাম বলেন, লাগেজ পাচ্ছি না। কখন পাব, তাও জানি না।
জেদ্দা থেকে ফ্লাইটে দেরির ভোগান্তির কথা জানিয়ে ঢাকায় এসে লাগেজ না পাওয়ার কথা বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের লতিফা বেগমও।
একই বিড়ম্বনার শিকার ঝিনাইদহের আমিনুল ইসলাম বলেন, ২৪ ঘণ্টা এয়ারপোর্টে বসেছিলাম। এখানে এসে দেখি লাগেজ নাই। এই দুর্ভোগ কোনো অংশেই ক্রেইন দুর্ঘটনা বা মিনার ঘটনার চেয়ে কম না।