দেশের সরকার ব্যাচেলরদের জঙ্গী আখ্যায়িত করে তাদের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে

আশিকুল কায়েসঃ জঙ্গীরাতো তাদের সন্তান ও পরিজনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে ঘরের মধ্যে ক্যাম্প গঠন করতে পারে না, জঙ্গীদের অপারেশন সফল করতে কাছে থাকে ভয়ঙ্কর অস্ত্র, গ্রেনেড, গোলাবারুদসহ বিভিন্ন মারনাস্ত্র। সেক্ষেত্রে তাদের উপযুক্ত জায়গা ও পরিবেশ নির্বাচন একপ্রকার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। কেননা তাদের উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ঠ আত্মগোপনে থাকতে হয়। সন্ত্রাসী নিজে নিজে কখনও তৈরি হতে পারে না, ক্ষোভ ও ঘৃণার জায়গা থেকে সন্ত্রাসীদের সৃষ্টি।এই ক্ষোভটা তাদেরকে সেই পথটি নির্দেশ করে যেটা তাদের কাছে অধিক যুক্তিপূর্ণ।তাই সহজেই সাধুর মতই ঘরের বাইরে বেরিয়ে পড়ে তারা। তাদের সাথে ব্যাচেলরদের কোন সম্পর্ক নেই। জঙ্গী নামে সন্ত্রাসীরা না ভাবে বাড়ী ঘরের কথা, না ভাবে পরিজন ও আত্মীয় স্বজনের কথা।তাই তাদেরকে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা ও সংগ্রাম করার চিন্তা করতে হয় প্রতিনিয়ত। এক্ষেত্রে কয়েকজন সন্ত্রাসী যুক্তিপূর্ণভাবে একই জাইগায় অবস্থান করে সেখান থেকে উদ্দেশ্য সফলকরণে মাস্টারপ্লান পরিচালনা করলে সেই দোসারপটা কেনই বা ব্যাচেলরদের উপর এসে বর্তাবে?
সারাদেশে ব্যাচেলরদের নিয়ে গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে আলোকপাত হলেও ব্যাচেলর সমস্যা নিয়ে কোন প্রকার সমাধানতো নেই-ই বরংচ ব্যাচেলর শব্দটাই অবহেলার মতই অচীরে চাপা পড়ে যায়।ঢাকা শহরে পড়তে আসা হাজার হাজার মানুষ যখন ব্যাচেলর হিসেবে গণ্য হয়, এটা বিবেচনায় আনা প্রয়োজন যে প্রতিটা ব্যাচেলরই মানুষের বাচ্চা, তারা কোননা কোন মা বাবার সন্তান।তারা যে কত কষ্টে ঢাকা শহরে বাস করে সেটা সরকারের কখনও রেখাপাত করেছে কি না আমার জানা নেই।বিগত দিনে ব্যাচেলর সম্পর্কে কথা উঠলেও সেগুলো ধামাচাপা থেকে গেছে, এটা কারোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে মনে হয় নি। দেশে জঙ্গী তৎপরতার কারনে আজ ব্যাচেলর নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি, যা হয়তো কর্তা ব্যক্তিদের কানে ঢুকলেও সেটা ঝাঁকুনি দিয়ে ফেলে দেবেন।
ঢাকা শহরের বাড়ীওয়ালাদের জীবনবৃত্তান্ত খুললে দেখা মিলবে এই শহরের অধিকাংশ বাড়িওয়ালাই বড় বড় কর্তা ব্যক্তি, যারাই আজ দেশের শ্বাশন ব্যবস্থায় নিয়োজিত। জরিপে আনা দরকার এই সকল দেশভাবুক ও জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী ব্যক্তিদের ৮-১০ তলা পাঁচ-সাতটি বাড়িতে কয়টি রুম ব্যাচেলরদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। দরিদ্র কিংবা মধ্যম পরিবার থেকে উঠে আসা উচ্চশিক্ষার নামে যখন কোন মানুষকে পাড়ি জমাতে হয় ঢাকা শহরে সবাই তাদেরকে ব্যাচেলর বলে আখ্যায়িত করে থাকেন।সরকারতো বিভিন্ন খাতে জুন মাসের বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। কখনও কি ভেবেছেন এই ব্যাচেলরদের কথা। ঢাকায় এসে বাবার পাঠানো কষ্টের টাকা দিয়ে কতজন মিলে একরুমে থাকতে হয় সেটা সবারই জানা, এই কষ্টের কথা একমাত্র রুমের রুমমেট ছাড়া আর কেউ সেভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। শুধুমাত্র বাড়ীর উপর আর্থিক চাপটা কমানোর জন্য নীরবে অনেক কষ্ট সহ্য করে যায়।বাবার যদি কাড়ি কাড়ি টাকা আর অফুরন্ত সম্পদ থাকে তাহলে ঢাকা শহরে পড়ালেখা করার জন্য মেস নয় বরং বাড়িটাই কিনে নিতেন। ব্যাচেলর চাকুরিজীবির সামর্থ্য যদি বাড়ী কেনার মত হতো তাহলে তারা কখনও মেস ভাড়া করে থাকতেন না। কেন না তাদেরও বাড়ীর কথাটাই চিন্তা করতে হয়। বড়লোকেরা তো চলে দামি গাড়ি আর রুচিশীল পোশাকে। আর মধ্যম ও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এটা সম্ভব নয় বলে তাদের ব্যাচেলর নামক যন্ত্রণাটা ভোগ করতে হয়।
সবাই অকপটে স্বীকার করবেন ছাত্র ব্যাচেলর মধ্য থেকে একসময় ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা দেশের উপযুক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি হয়ে থাকেন। এগুলো দেখা মেলে হাজারে একটা, কিন্তু ব্যাচেলরদের নিয়ে সরকার যদি একটু ভাবতেন তাহলে হাজারে একটা নয় বরং অর্ধ হাজার এরকম যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি তৈরি করা সম্ভব ছিল। মেধাবী ছাত্র ছাত্রীরা তাদের উপযুক্ত পরিবেশ কিংবা যথেষ্ঠ পরিমাণ উপাদান পাইনা বলেই বিদেশী চক্রান্তের হাতে পড়ে বিভিন্ন দেশে কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।দেশের মেধা বিদেশে পাচার হয় শুধু সরকারের অবহেলার কারনে। দেশে যতই উচ্চশিক্ষা দিয়ে মানুষের সার্টিফিকেট অর্জন করাই না কেন, এটা ভাবতে হবে যে মেধা তৈরি করতে না পারলে এই উচ্চশিক্ষার মান ওয়ান ক্লাসে পড়ার মত যোগ্যতাও রাখে না। সরকারি কলেজে হল কিংবা হোস্টেল আছে। জরিপ করলে দেখা যাবে ১০০ কলেজের মধ্যে হল কিংবা হোস্টেলের কর্তৃত্ব মাত্র ৩টি কলেজের থাকে, তাও নিজস্ব কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। হলে পর্যাপ্ত পরিমান সীট না থাকায় ছাত্র ছাত্রীর বিরাট অংশ কোথায় গিয়ে থাকবে এটা কি সরকার ভেবে দেখেছে কখনও। আর যদি ভেবেই থাকে যে তারা ভাড়া বাড়ীতে ম্যাচ করে থাকবে, তাহলে ব্যাচেলরদের থাকা নিয়ে এত অভিযোগ কেন? কেনইবা ব্যাচেলরদের বাসাবাড়িতে স্থান করে দেওয়া হয় না। কেনই বা তাদের ঘৃণার চোখে দেখা হয়? ব্যাচেলরদের স্থান মেলে সচরাচর গুদাম কিংবা নোংড়া ভবনের কোন অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে। আর এই পরিবেশে অবস্থান করে ক্ষোভ ও ঘৃণার জায়গা থেকে বরং মেধাবি নয় পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে নোংড়া কিছু হওয়াটা অপেক্ষা করে তাদের জন্য।ঢাকা শহরের বাড়ীর দিকে লক্ষ্য করলে সহজেই বুঝা যায় কোন বাসায় ব্যাচেলরের ঠায় মিলবে আর কোন বাসায় ব্যাচেলরের ঠাই মিলবে না।ব্যাচেলরা তো মানুষ, তবে কেন সাধারণ মানুষের মধ্যে এত বৈষম্য। নাকি জোর যার মুল্লুক তার। দ্বারে দ্বারে ঘুরে যখন বাসা পাওয়াটা কঠিন হয়ে যায় তখন মন চাই ঐ বাড়িওয়ালার গলাটিপে আসি, আমরা কি মানুষ নই শুধু কি ওরাই মানুষ। বাড়ীওয়ালাদের কাছে কিছু রুখে বলতে গেলেও সন্ত্রাসের পরিচয় হয়ে যায়। এগুলো কি সরকার কর্তৃপক্ষ উপলব্ধি করে না।নাকি দেশের কর্তা ব্যক্তিরা চাইনা বলে সরকারও তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলে।
বর্তমান জঙ্গী তৎপরতার কারনে ব্যাচেলর নামধারী ব্যক্তিরা পড়ে গেছেন মহাবিপাকে। বাসা পাওয়াটা তাদের জন্য দুস্কর হয়ে পড়েছে। এমনকি ৫ বছর যাবত একই ভবনে থাকার পরেও বাড়ীওয়ালা এসে আগামী মাসে নেমে যাবার আল্টিমেটাম দিচ্ছে। জঙ্গীনামের সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড ঘটার আগে যারা বাসা ছেড়েছেন কিংবা ঈদের পরে এসে নতুন বাসায় উঠার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তারা এখন বাস্তুহারা।পকেটে টাকা থাকা সত্বেও বাসা দিচ্ছে না বাসার মালিকেরা। তাও আবার কতজনেরই বা আছে কাড়ি কাড়ি টাকা। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিবৃতি দেওয়া হলো “ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া নিয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। সরকার পক্ষ থেকে কি শুধু এতটুকুই করণীয় ছিল? এসব বিবৃতি দেওয়ার পরেও কি ঢাকার বাড়ীর মালিকেরা ঐ কথাগুলো শুনছে? বরং একান দিয়ে শুনছে আর ঐকান দিয়ে বের করে দিচ্ছে। পুলিশি বার্তার মাধ্যমে ব্যাচেলরদের সমস্যার কথা ধামা চাপা দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই একপ্রকার বসে আছে সরকার। তারা কি খোজ খবর নিয়েছে ব্যাচেলাররা কি হালে আছে? ব্যাচেলারতো বাজেটের বড় কোন অংশ কিংবা ব্যাচেলর ভাতাও চাই না। তারা শুধু চাই থাকার জন্য একটু সুষ্ঠু পরিবেশ।সেটা সঠিকভাবে নিশ্চিত না করতে পারলে দেশের সরকার কোন স্বার্থে ব্যাচেলরদের জঙ্গী আখ্যায়িত করে তাদের মৌলিক অধিকার (বাসস্থান) কেড়ে নিয়েছে? জঙ্গী কখনো ব্যাচেলরদের ক্যাটাগরিতে পড়ে না। তাদের বড় কোন পৃষ্ঠপোষকতার মদদ আছে বলেই তাদের কাছে সর্টগান, পিস্তল কিংবা বন্ধুক থাকে। যেটা ব্যাচেলরদের কাছে স্বপ্নের মতন। কারণ তাদের পরিবারের আর্থিক চিন্তাটা করতে হয়। এতটাকা দিয়ে সর্টগান বা মারনাস্ত্র কেনার সামর্থ্য কোথায়? একটা সর্টগানের টাকা দিয়ে ব্যাচেলর কয়েকটা মাস চলতে পারে। অযথা সে মারনাস্ত্র নিয়ে কি করবে? বাবার একটু একটু করে জমিয়ে রাখা স্বপ্নকে সে গুলি করে হত্যা করতে চাই? সেটা যদি হতো তাহলে ব্যাচেলর হওয়ার আগেই সে ঝড়ে পড়ে যেতো। সুতরাং ব্যাচেলরদের মধ্যে কোনরকম জঙ্গী থাকতে পারে না। জঙ্গীগোষ্ঠী বিশেষ কোন দল বা সংগঠন। দেশের এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাচেলরদের পক্ষে ছাপাই গাইলেও বাস্তবে ঢাকার বাড়ীওয়ালাদের কানে ঢুকছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর নিকট ব্যাচেলরদের পক্ষ থেকে অনুরোধ দয়া করে আপনারা ব্যাচেলরদের নিয়ে রাজনীতি করবেন না।-লেখকঃ সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ