দেশের মানুষের কাছ থেকে ‘স্বার্থ’ উধাও হয়ে গেছে–সিপিবি

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, নীতি-ˆনৈতিকতা বর্জিত শুধুমাত্র ক্ষমতাশ্রয়ী দূর্বৃত্তায়িত রাজনীতির কারণে দেশের মানুষের কাছ থেকে ‘স্বার্থ’ উধাও হয়ে গেছে। নির্বাচন থেকে শুরু করে মানুষের জীবনের অনিশ্চয়তা সর্বত্র। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে নীতিনিষ্ঠ বাম শক্তির পতাকাতলে মানুষকে সমবেত করতে হবে। ঐ শক্তিই পারবে “ভিশন মুক্তিযুদ্ধ-’৭১” বাস্তবায়ন করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার ধারায় দেশকে ফিরিয়ে এনে শোষণ-ˆবষম্যের অবসান ঘটাতে।
আজ বিকালে ঢাকার কলাবাগানস্থ ধানমন্ডি ল’ কলেজ প্রাঙ্গণে সিপিবি’র ধানমন্ডি থানা সম্মেলনে পার্টির ধানমন্ডি থানা সভাপতি শংকর আচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যদের মধ্যে সিপিবি’র ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল, শ্রমিকনেতা আব্দুল মালেক, খোদাদাদ আহমেদ, আলমগীর কবীর, প্রবীন নেতা আশরাফ হোসেন আশু, লুনা নূর, মনিষা মজুমদার প্রমুখও বক্তব্য রাখেন।
রুহিন হোসেন প্রিন্স দেশবাসীর উদ্দ্যেশে বলেন, সকল মানুষের জন্য দেশ গড়তে, সাহস করে নীতিহীন অপশক্তিকে ‘না’ ও নীতিনিষ্ঠ শক্তিকে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। তিনি সম্প্রতি কিশোর বিদ্রোহকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এরা দেশবাসীর মনের কথা উচ্চারণ করে বলেছে ‘আমরা ন্যায় বিচার চাই’। একই সাথে তারুণ্যের দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছে, ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ’। এই তারুণ্যকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারলে, এরা দেশ গড়তে অন্যান্য ভূমিকা পালন করবে।
তিনি দুর্নীতি-লুটপাট, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদ রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে বলেন, বর্তমানের দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে গদির পরিবর্তনের সাথে নীতির পরিবর্তনের লড়াইকে জোরদার করতে হবে।
তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে বলেন, এজন্য সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি চালুসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। ভোটাধিকার, অর্থ, পেশিশক্তি, কারসাজি ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা অচল ঢাকাকে সচল করে সকলের বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার আহবান জানিয়ে বলেন, দখলদারিত্ব বন্ধ করে, সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ঢাকার জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া বাসযোগ্য ঢাকা গড়া যাবে না। বক্তারা, একই সাথে ঢাকার মত সুযোগ-সুবিধাসম্পনś অন্যান্য শহর গড়ে তোলা এবং উপজেলা ও গ্রামে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ উনśয়নে কার্যকর ভূমিকা পালনে আহবান জানান।
সম্মেলন উপলক্ষ্য এলাকায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।