Home রাজনীতি দেশের মানুষকে দুই ডোজ টিকা দিতে দশ বছর লাগবে–বাবলা

দেশের মানুষকে দুই ডোজ টিকা দিতে দশ বছর লাগবে–বাবলা

75

মাহাবুবুর রহমান: জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেছেন, আমাদের দেশে সরকার টিকা প্রদানে যে পরিকল্পনার কথা বলেছে, তাতে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে এক ডোজ টিকা দিতে ৫ বছর লাগবে। দুই ডোজ দিতে ১০ বছর লাগবে। এই পরিকল্পনায় এগুলে ১০ বছরে দেশের অর্থনীতি কী হবে তা বুঝতে পারছি না।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ।

এই সময় জাপা এমপি বাবলা প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতার দোয়া আর দেশের মানুষের ভালোবাসায় রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আজ ওর্য়াল্ড ক্লাস লিডার হিসেবে বিশ্ব দরবারে সমাদৃত । তার যোগ্য আর দৃড় চেতা নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বুকে নতুন করে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। দেশবিদেশী কোনো অপ -শক্তি চক্রান্ত ষড়যন্ত্র আর অপ প্রচার করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি আর সমৃদ্ধির ধারাকে রুদ্ধ করতে পারবে না।

বাবলা বলেন, করোনা মহামারীকালেও দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে গেল বারের চেয়ে এবার বাজেটে বরাদ্দ বেশি না দেওয়া এবং গেল বারের বরাদ্দকৃত বাজেট ব্যয় না করা অত্যান্ত দুখজনক। এই স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এত কথা বলা হচ্ছে, অথচ তার বরাদ্দ জিডিপির সেই ১ শতাংশের মধ্যেই আছে। যা প্রতিবেশী নেপাল, ভারত, শ্রীলংকা এমনকি পাকিস্তানের চাইতেও কম। এই বরাদ্দ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের চাহিদা মিটবে না। অন্য দিকে বরাদ্দ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য খাত পিছিয়ে আছে। এই বাস্তবতায় স্বাস্থ্য খাত বড় ধাক্কা সামলাতে পারবে না। আমি মনে করি স্বাস্থ্যখাতে কমপক্ষে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দরকার। কারণ স্বাস্থ্যখাত শক্তিশালী হলে করোনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণ হলে আমাদের অর্থনীতি আরো চাঙ্গা হবে।

বাবলা বলেন, এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট এটি। আলোচিত এই বাজেটে অনুদানসহ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ। অনুদান বাদ দিলে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এতো বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে যে ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়। আমি মনে করি এই বাজেট ব্যাপকভাবে সংশোধন বা রদবদল করতে হবে।

বাবলা আরো বলেন, করোনা মহামারীর কারণে অনেকের মতো আজ দেশের লাখো শিক্ষিত চাকরি প্রত্যাশীদের অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হচ্ছে। গত দেড় বছরে সরকারি-বেসরকারি সেক্টরে ৮৭ ভাগ চাকরির বিজ্ঞপ্তি বন্ধ আছে। আর এই করোনার সময়ে চাকরিতে আবেদনের বয়স অর্থাৎ ৩০ বছর পার করেছে দেড় লাখের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী। তারা বিসিএস সহ সব চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ানোর জন্য শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। করোনকালে বিসিএস সহ সকল চাকরি পরীক্ষায় আবেদনের বয়স বাড়ানোর দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। কারণ, নব্বই দশকের শুরুতেও চাকরিতে আবেদনে সর্বোচ্চ বয়স ছিল ৩০। তখন গড় আয়ু ছিল ৫৫। আজ তিন দশক পরও চাকরিতে আবেদনে বয়স বাড়েনি অর্থাৎ সেই ৩০ ই আছে। কিন্তু এই সময়ে আমাদের গড় আয়ু বেড়েছে। আজ সরকারের গৃহিত সার্বিক সুব্যবস্থাপনার কারণে দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর অতিক্রম করেছে। এই কৃতিত্ব বর্তমান সরকারের এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীতভাবে নিবেদন করছি, করোনকাল বিবেচনায় এই তরুণদের দাবির বিষয়টি যেন সুবিবেচনায় নেওয়া হয়।