দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ১৩তম

97

যুগবার্তা ডেস্কঃ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুর্নীতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) আজ দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৫ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।
এই প্রতিবেদন অনুসারে বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ১৩তম। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন সোমালিয়া অপরদিকে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ডেনমার্ক।
দুর্নীতি সূচক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে এবার ভালো স্কোর করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, আইসল্যান্ড, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, আয়ারল্যান্ড, জাপান, কাতার , ফ্রান্স, দুবাই।
বাংলাদেশের সমান স্কোর পেয়েছে গিনি, ইলিনিয়া,লাউস, পাপুয়া নিউগিনি, উগান্ডা।
বাংলাদেশের থেকেও বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ হচ্ছে মিয়ানমার, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, উজবেকিস্তান, জিম্বাবুয়ে, ইরিত্রিয়া, সিরিয়া।
বৈশ্বিকভাবে আমরা যেটা দেখছি দুর্নীতি একটি ব্যাপক সমস্যা হিসাবে বিরাজ করছে। কারণ কোন দেশই শতভাগ স্কোর পায়নি। সবচেয়ে ভাল স্কোর হচ্ছে ১শ’র মধ্যে ৯১। গত বছর সর্বচ্চ স্কোর ছিল ৯২। ১৮০ টি দেশের মধ্যে অর্ধেকের বেশি দেশের স্কোর ৫০ এর নিচে।
প্রতিবেদনটি সারা বিশ্বে একই সঙ্গে প্রকাশিত হয়। টিআই বলছে সরকারিখাত কতটা দুর্নীতিগ্র¯’ তার উপর ভিত্তি করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। ২০১৪ সালে মোট ১৭৫ টি দেশকে এই সূচকের আওতায় আনা হয়েছিল।
দুর্নীতি সূচকের বিষয় নিয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের(টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান। দুর্নীতির ধারণা সূচক-২০১৫ এর প্রতিবেদন সম্পর্কে ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন এই প্রতিবেদনে সরকারিখাত বিশেষ করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়কে কেন্দ্র করে যে ধরনের দুর্নীতি হয় বা দুর্নীতি মোকাবেলা করতে হয় তার উপর এক ধরনের মুল্যায়নের উপর ভিত্তি করে দুর্নীতি ধারণা সূচক তৈরি করা হয়।

ড.ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, এই প্রতিবেদন করার জন্য যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয় সেটা হচ্ছে যে সরকারি কাজ করতে গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোন নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্র্থ লেনদেনের স্বীকার হতে হয় কিনা যেটাকে আমরা ঘুষের লেনদেন বলে থাকি। এর পরে ক্ষমতার যারা থাকেন তারা ক্ষমতা অপব্যবহার করে ব্যক্তি স্বার্থে কতটা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন, স্বার্থের দ্বন্ধের বিষয়টাও আসে। আবার অন্য দিক থেকে সরকারের যে প্রতিষ্ঠানিক এবং রাষ্ট্রীয় নীতি কাঠামো আছে ইতিবাচকভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে তার কতটুকু সামর্থ আছে সেটাও বিবেচনায় আসে। এর উপর ভিত্তি করে এবার ১৬৮ টি দেশের উপর জরিপ করা হয়েছে। যেটা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বার্লিন ভিত্তিক কেন্দ্রীয় সচিবালয় আছে সেখান থেকে সেটা করা হয়। এই তথ্যগুলো ১২ টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণিত গবেষণা এবং জরিপের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এই জরিপ কাজটি শুরু হয়েছে ১৯৯৫ সাল থেকে।

বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতির সূচকে কতটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এর উত্তরে ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন আমি সার্বিক বিবেচনায় যেটি বলব আামদের মনে আছে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত আমাদের জন্য লজ্জাজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ টানা ৫ বার দুর্নীতি সূচকে আমাদের অবস্থান সর্বনিম্ন হয়েছিল। পরবর্তিতে ধীরে ধীরে সেখান থেকে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। ২০১৪ সালে ১৭৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশর অবস্থান হয়েছিল ১৪ তম। এখন দেখার বিষয় এ বছর অবস্থান কোথায় আছ্ আমি এটুকু বলতে পারি সার্বিকভাবে বৈশ্বিক পরিস্থিতে এবার ফল খুব একটা ভাল ফল হয়নি। বরং অনেক দেশেরই অবস্থানের দিক থেকে অবনতি হয়েছে।

বাংলাদেশে দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল তার বাস্তবায়ন কতটা চোখে পড়েছে এ প্রসঙ্গে ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন এই প্রতিবেদনের এটাই মুল বিষয় সরকার কতখানি দায়িত্ব সহকারে তাদের অঙ্গীকারগুলো পালন করছেন এবং যারা দুর্নীতি করেন বিচার ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে কিনা এই বিষয়গুলি দেখা হয়। আমি মনে করি এই বিশ্লেষণও আছে সেটা হচ্ছে আমাদের আইনী প্রতিষ্ঠানিক এবং নীতি কাঠামো জোড়ালো হয়েছে। বিশেষ করে গত এক দশকে অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগ সময় বর্তমান সরকার ক্ষমতায় ছিল। কিš‘ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মুল ঘাটতি দেখা যায় সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক প্রভাব, ক্ষমতায় থাকলে সম্পদ বাড়বে এই ধরনের মানসিকতা সমাজে এক ধরনের ভূল বার্তা দেয়। যার ফলে দুর্নীতি যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা ছিল সেটা সম্ভব হচ্ছেনা।আরিফুর রহমান , আমাদের সময়.কম