দুর্গাপুরে দুবৃর্ত্তদের দেওয়া আগুনে বৃদ্ধার মৃত্যু

রাজশাহী অফিস : দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামে হিন্দু পল্লীর এক বাড়িতে দুবৃর্ত্তরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এতে লাবন্য প্রভা (৮০) নামের এক বৃদ্ধা নারী আগুনে পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৬টি গবাদি পশু ও বাড়ির আসবাবপত্র ভূস্মীভূত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিবারের দাবি নাশকতা ও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দুবৃর্ত্তরা তাদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কয়ামাজমপুর মন্ডলপাড়ার হিন্দু পল্লীতে এঘটনা ঘটে। থানার পুলিশ আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া বৃদ্ধা ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছেন। রোববার সকালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পুঠিয়া সার্কেল আসলাম উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে নগদ ১০হাজার টাকা, ৫টি কম্বল ও ২বানডিল টেউটিন প্রদান করেন।

নিহতের বড় ছেলে সঞ্জীব কুমার মন্ডল বলেন, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২ টার দিকে নাশকতা ও পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে দুবৃর্ত্তরা তার মাটির টিনসেড বাড়ির পূর্ব পাশের দিকে থেকে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর আগুনের লেলিহান শিখা ছড়াতে থাকলে বাড়ির লোকজন টের পায়। কোন কিছু বুঝিয়ে উঠার আগেই ঘরে ঘুমিয়ে থাকা বৃদ্ধা মা লাবন্য প্রভা আগুনে দগ্ধ হতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি আগুনে পুড়িয়ে মারা যান। রাত ১টার দিকে থানার পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

পরে পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। মাটির টিনসেড বাড়ির ৩টি ঘর পুরোটাই আগুনে পুড়ে ভূস্মীভূত হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধ হয়ে ৩টি ছাগল, ৩টি হাঁস মারা যায়। এছাড়াও ঘরে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণ পুড়ে যায়। এতে তাদের পরিবারের ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো জানান, প্রায় ২মাস আগে তাদের বাড়ির খড়ে পালায় আগুন দেয় দৃবৃর্ত্তরা। এছাড়াও গত ৭ জানুয়ারি রাতের আঁধারে তাদের রান্না ঘরে আগুন দেয়। পরে তাৎক্ষনিক বাড়ির লোকজন আগুণ নিয়ন্ত্রণ করে ছিলো। পরিবারের দাবি নাশকতা ও পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে দৃবৃর্ত্তরা।

তপন কুমার, সুশীল মন্ডলসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, তাদের এই হিন্দু পল্লীতে প্রায় ১৫-২০টি পরিবার বসবাস করে। ওই পল্লীতে বরাবরই এরকম আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

তারা আরো বলেন, এই পল্লীতে বর্তমানে কারো বাড়িতে আর খড়ের পালা নেই। খড়ের পালায় তৈরি করলেই দৃবৃর্ত্তরা তাতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

এছড়াও দুর্গাপুর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিনয় কুমার, সাধারণ সম্পাদক আনন্দ কুমার, কিসমত গণকৈড় ইউপি চেয়ারম্যান আফসার আলী মোল্লা রোববার সকালে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রহুল আলম জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনাটি নাশকতা ও পুর্ব পরিকল্পিত কিনা তদন্তের মাধ্যমেই জানা যাবে। ইতিমধ্যেই পুলিশ বৃদ্ধা নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছেন। তবে থানায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি।