থার্টি ফার্স্ট: রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা

72

যুগবার্তা ডেস্কঃ থার্টি ফার্স্ট নাইটে রাজধানীসহ সারাদেশে যে কোন জঙ্গি গোষ্ঠী নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা গ্রহণ করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। পাশাপাশি সিআইডি, এসবি, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের সদস্যরাও রাজধানীর বিভিন্ন এলকায় অবস্থান করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য ছিল, থার্টি ফার্স্ট নাইটে (৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে) ইংরেজি নববর্ষ উৎযাপন অনুষ্ঠানে জঙ্গিরা নাশকতামূলক তৎপরতা চালাতে পারে। এ তথ্য পাওয়ার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে রাজধানীসহ সারাদেশেই উম্মুক্ত স্থানে সব ধরণের অনুষ্ঠান ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

থার্টি ফার্স্ট নাইটে রাজধানীর অভিযাত এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছিল জেএমবি। এজন্য তারা রাজধানীর মিরপুরের ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ বোমা ও প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক মজুদ করেছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে সব পরিকল্পনা নষ্ট করে দিয়েছে। এছাড়া জঙ্গিদের আরো কোন পরিকলল্পনা থাকতে পারে সে জন্য তারা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সূত্র আরো জানায়, জঙ্গিরা রাজধানীতে সম্ভাব্য নাশকতার জন্য যে এলাকায় ঠিক করেছিল। এগুলো হলো- মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা এবং ফার্মগেট, গুলশান, বনানী, টিএসসি, খিলগাঁও, পল্টন, মোহাম্মদপুর, বারিধারা, উত্তরা, ধানমন্ডি, মন্ত্রিপাড়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। যার ফলে এসব এলাকায় গত শনিবার থেকে বিশেষ নিরাপত্তা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এছাড়া থ্রি স্টার ও ফাইভ স্টার হোটেলগুলোর সামনেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর গুলশান ক্লাব, ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাবসহ নগরীর ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে ঘরোয়াভাবে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপিত হবে। সেখানেও বিশেষ নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বিবার্তা প্রতিবেদককে বলেন, থার্টি ফাস্ট নাইটে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল জেএমবির। এজন্য তারা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে রাজধানীসহ অবস্থান করেছিল। সম্প্রতি এক জঙ্গি গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ায় তাদের সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

তিনি আরো বলেন, রাজধানীর যেসব জায়গায় সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা ছিল সেসব এলাকায় সাদা পোশাকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে। আশা করি দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করতে পারবে।

এদিকে ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নাশকতার আশঙ্কায় রাজধানীতে থার্টি ফার্স্ট নাইটে উম্মুক্তভাবে কোন অনুষ্ঠান করতে দেয়া হবে না। রাজধানীবাসীর চলাচলেও বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অপর দিকে মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও থার্টি ফাস্ট নাইটের দিন সন্ধ্যার পর কোন ধরণের অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটে জঙ্গিদের নাশকতা চালাবে গোয়েন্দাদের কাছে এমন তথ্য ছিল। যে কারণে সারাদেশে উন্মুক্ত স্থানে কোন অনুষ্ঠান চালু রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে। বিবার্তা/আসাদুজজামান/প্লাবন.