থামছে না পদ্মার ভাঙন

যুগবার্তা ডেস্কঃ কিছুতেই থামছে না পদ্মার ভাঙন। প্রতিদিনই বাড়িঘরসহ নতুন নতুন স্থাপনা বিলীন হয়ে যাওয়ায় পদ্মার পাড়ে চলছে কান্না, আহাজারি, দুঃখ আর ক্ষোভ। রাক্ষুসী পদ্মার হিংস থাবায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে হাজার হাজার পরিবারে জীবন সংসার। সবকিছু হারিয়ে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে দিশেহারা হয়ে ছুটছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। পদ্মার তীরবর্তী লোকজনের চোখে কোনো ঘুম নেই। তারা দিন-রাত তাদের সর্বশেষ সম্বল ঘরবাড়ি, দোকান-পাট সরিয়ে নিতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরেও চোখের সামনেই বিলীন হচ্ছে বাপ-দাদার কবর, বসতভিটা বাড়িঘর ও বহুতল ভবনসহ অনেক স্থাপনা। এসব ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে রাস্তার পাশে বা অন্যের জমিতে খুপড়ি ঘর তোলে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আবার কোনো কোনো পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে কোনোরকম দিন কাটাচ্ছে। এ বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে নদীর গতি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় কোনো কাজেই আসেনি সরকারের এ অতিরিক্ত বরাদ্দ। গত ৫ দিনে নড়িয়ায় চর জুজিরা, সাধুর বাজার, বাঁশতলা, মূলফৎগঞ্জ বাজার সংলগś শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। বাঁশতলা থেকে মূলফৎগঞ্জ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ৩টি মসজিদ নদীতে চলে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে সুরেশ্বর-নড়িয়া সড়ক যোগাযোগসহ সব যোগাযোগ ব্যবস্থা। এদিকে মারাত্মক ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে মুলফৎগঞ্জ বাজার, নড়িয়া বাজার, পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় হারিয়ে যাবে আশপাশের আরো অনেক স্থাপনা। এ ছাড়া এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৩ হাজারেরও বেশি পরিবার সবকিছু হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। এদিকে নদী নড়িয়া বাজার এবং মূলফৎগঞ্জ বাজারের কাছে চলে আসায় ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজন প্রতিটি মুহূর্ত ভাঙন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। সরিয়ে নেয়া হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মালামাল।
এ বছর বর্ষা মৌসুমের পূর্বে পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাজ দ্রুত বাস্তয়নের দাবিতে ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন মানববন্ধনসহ বিভিনś কর্মসূচি পালন করলেও তা বর্ষার আগে বা¯Íবায়ন হয়নি। এ ভয়াবহ ভাঙন রোধে সরকার পদ্মা নদীর দক্ষিণ ডান তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প গ্রহণ করে। এরপর গত ২ জানুয়ারি তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তা একনেকের ˆবঠকে পাস করে। এ বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে নদীর গতি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় কোনো কাজেই আসেনি সরকারের এ অতিরিক্ত বরাদ্দ। গত ২ মাসে পদ্মার ভাঙনে প্রায় ৩ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। কোনো জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তারা কোনোরকম সাহায্য সহযোগিতা করেনি। এলাকায় মহা দুর্যোগ চলছে। সরকারের কাছে এলাকাবাসীর দাবি এ এলাকাকে দুর্যোগ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হোক।