Home রাজনীতি থানা-ওয়ার্ডের দুই পদে ডজনের অধিক নেতা

থানা-ওয়ার্ডের দুই পদে ডজনের অধিক নেতা

26

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের থানা-ওয়ার্ডের প্রায় সব কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। বেশ কিছু জায়গায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনও নেই। দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়া, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলে বেহাল নগরের থানা-ওয়ার্ড কমিটিগুলো। দুই অংশের বিভিন্ন থানার ডজনখানেক নেতা নগর আওয়ামী লীগে জায়গা পেলেও কেউই আগের পদ ছাড়েননি।

সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিট থেকে থানা পর্যন্ত কমিটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনায় আবারও তা স্থগিত হয়ে গেছে।

জানতে চাইলে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, আমরা সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে সেটা আবার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এক নেতার একাধিক পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহানগর কমিটির পর আমরা থানা বা ওয়ার্ড কমিটিতে হাত দিতে পারিনি। যদি সেগুলোতে হাত দিতে পারতাম, তাহলে এটা থাকত না। কিন্তু করোনার জন্য সেটা করতে পারিনি। তাই আপাতত যে যেখানে আছেন তাদের দিয়েই কাজ চালাচ্ছি। যারা নগরে এসেছেন, তারা থানায় আর থাকবেন না।

একই বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মন্নাফী বলেন, করোনার জন্য তো আমাদের সব কাজ বন্ধ করতে হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে আমরা এ কাজগুলো শুরু করব। এক নেতার একাধিক পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা নগরের কমিটিতে আছে তাদের থানা কমিটির পদ ব্র্যাকেট হয়ে গেছে। তারা আর থানার পদ ব্যবহার করতে পারবেন না।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনে একাধিক পদে এক নেতা থাকতে পারেন না। নিয়মানুযায়ী, কোনো নেতা এক পদে থাকা অবস্থায় অন্য পদ পেলে তাকে আগের পদ ছাড়তে হয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষিত হয়েছে ঢাকা মহানগরে।

গত বছরের নভেম্বরে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে থানা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জায়গা পান। কিন্তু তারা আগের পদ ছাড়েননি। এমনকি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগে দলীয় কাউন্সিলরদের মহানগরের কমিটিতে না রাখার নির্দেশনাও উপেক্ষা করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে কার্যনির্বাহী কমিটিতে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এএবিএম মাজহার আনাম। পরে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এখন তিনি দুই পদেই রয়েছেন। আব্দুল মান্নান ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য হয়েছেন। তিনি আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এখনো তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরেক সদস্য সারোয়ার আলম। তিনি পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

জানা গেছে, একই অবস্থা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগেও। সেখানকার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফজলুর রহমান পর্বত। একই সঙ্গে তিনি কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য সিরাজুল ইসলাম র‌্যাডো। তিনি চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

আরেক উপদেষ্টা আবুল কাশেম। তিনি আওয়ামী হকার্স লীগের সভাপতি। মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি হাজি মো. সাহিদ। তিনি একই সঙ্গে সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আজহার। তিনি শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক।

মহানগরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এফএম শরিফুল ইসলাম শরিফ। তিনি ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। মহানগরের কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির। তিনি ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ।

মহানগরের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদ। তিনি নিউমার্কেট থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আরেক সদস্য রাকিব হাসান সোহেল। তিনি সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

এদিকে, একই সঙ্গে দুই পদে থাকার বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন নেতারা। কারও কারও দাবি পদত্যাগ না করলেও কার্যত তারা আর আগের পদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। নতুন পদ পাওয়ার পরে সেখানে তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আবার কেউ কেউ বলছেন, তাদের আগের পদে নতুন কেউ দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত দুই পদে দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম র‌্যাডো বলেন, আপাতত দুই জায়গাতেই তাদের কাজ করতে হচ্ছে। আমার পদে নতুন কেউ এলে আমি আগের পদ ছেড়ে দেব। মহানগরের কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির বলেন, আমি আর আগের পদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। তাদের কোনো কর্মসূচিতেও আমি অংশগ্রহণ করি না।

এদিকে, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একই সঙ্গে এক ব্যক্তি কোনো ভাবেই দুই পদে থাকতে পারবেন না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অধীনে ২৪টি থানা, ৭৫টি ওয়ার্ড এবং ওয়ার্ডগুলোর অধীনে ৫-১০টি করে ইউনিট রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের অধীনে ২০টি থানা, ৬৫টি ওয়ার্ড, একটি ইউনিয়ন রয়েছে। উত্তরের ওয়ার্ডগুলোর অধীনেও বেশ কয়েকটি করে ইউনিট কমিটি রয়েছে। নগর নেতাদের সঙ্গে কথা ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে এসব কমিটির মেয়াদ নেই। অনেক জায়গায় পূর্ণাঙ্গ কমিটিও নেই। আবার দু-চার জায়গায় একাধিক কমিটিও রয়েছে।

জানা গেছে, ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পল্টন থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তবা জামান পলাতক। আর সভাপতি এনামুল হকের বয়স হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ থানাটির দলীয় কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির।

লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী দেলোয়ার হোসেন মারা গেছেন। সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান জামাল এককভাবে সামাল দিতে পারছেন না। ফলে গ্রুপিং ও মতবিরোধ তৈরি হচ্ছে। মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রাজনীতিতে প্রায় নিষ্ক্রিয়। নেই পূর্ণাঙ্গ কমিটিও। ফলে, ব্যাংকপাড়াখ্যাত মতিঝিলের মতো একটি থানায় দলের রাজনীতিতে শৃঙ্খলা নেই। প্রায় ১২ বছর ধরে কমিটি হয় না রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী থানায়। সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ মুন্না। অজ্ঞাত কারণে এ এলাকায় নতুন নেতৃত্ব আসে না। পূর্ণাঙ্গ কমিটিও হয় না।-যুগান্তর