তৃতীয় দফায় ইউপির ভোটগ্রহণ শেষ,গণনা চলছে

51

যুগবার্তা ডেস্কঃ বড় ধরনের গোলযোগ না ঘটলেও নানা অনিয়মের মধ্যে তৃতীয় ধাপে দেশের ৬১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গোলযোগ না হওয়ায় সন্তোষ জানালেও কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের অনিয়মে ইসির অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাচন কমিশনার।
সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ শেরেবাংলা নগরে ইসি কার্যালয়ে পৌঁছান। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাকি চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবও পৌঁছে যান।
পরে সিইসির কক্ষে বৈঠকে বসেন চার নির্বাচন কমিশনার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, “ক্ষমতাসীন দলের আশ্বাস পেয়ে আমরা মনে করেছিলাম-ব্যালট পেপার ছিনতাই, সংঘর্ষ কিছুটা কম হবে। তাদের নেতা-কর্মীরা অনিয়মে জড়াবে না। আমরাও সতর্ক করেছিলাম; কিন্তু দেখছি উল্টো। ঝামেলা তো করেই যাচ্ছে।”
মাঠ পর্যায় থেকে অনিয়মের যথাযথ চিত্র না পেলে ঢাকায় বসে ইসির কিছু করার থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ভয়ে থাকলে কিংবা অনিয়মের প্রকৃত চিত্র না পাঠালে আমরা কী করি? প্রশাসন সহায়তা না করলে স্বাধীন সংস্থা কাগজে-কলমে থাকে।”
ইসি কর্মকর্তারা জানান, মানিকগঞ্জ, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, শেরপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় অনিয়মের তথ্য কমিশনে এসেছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ইসির উপ সচিব সামসুল আলম বলেন, কোথাও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। কোনো ইউপির ভোটও বন্ধ হয়নি। তবে কিছু কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়েছে।
ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত ১২টি কেন্দ্রে ভোট বন্ধের তথ্য মাঠ পর্যায় থেকে এসেছে। এ সংখ্যা বাড়তে পারে।
ভোট শেষ হওয়ার পরে নানা অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে যায় বিএনপির প্রতিনিধি দল।
কুমিল্লায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই এবং অন্য দুটিতে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের গুলিতে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে।
এ ধাপে ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও স্বাভাবিকভাবেই মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগের নৌকা এবং বিএনপির ধানের শীষে।
চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও সাধারণ এবং সংরক্ষিত সদস্য পদের নির্বাচন হচ্ছে নির্দলীয়।
গত দুই ধাপে অন্তত ৩৫ জন লোকের প্রাণহানি হয়েছে ভোটের আগে-পরের সহিংসতায়। অনিয়মের কারণে শ’খানেক কেন্দ্রও বন্ধ করা হয়।
ইতোমধ্যে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে গাজীপুরে একজন এসপি ও দুইজন ওসিকে এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।