তিস্তার পানি বিপদসীমায়, বিস্তীর্ণ অঞ্চল তলিয়ে গেছে

48

যুগবার্তা ডেস্কঃ ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ বিপদসীমা (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় তা আরও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর প্রভাবে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি গ্রাম হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়িতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একহাজার মিটার দীর্ঘ বালির বাধের ৪শ’ মিটার এর মধ্যে ধসে গেছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্ভাবাস সর্তকীকরণ কেন্দ্রের সুত্রমতে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে শনিবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা অববাহিকার ডালিয়ায় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় ১২৭ মিলিমিটার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
এদিকে তিস্তার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ড, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ,লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা,কালিগঞ্জ ,রংপুরের গঙ্গচড়া উপজেলার তিস্তা নদী বেস্টিত চর ও চর গ্রামগুলোর এলাকার ২৫টি চর ও গ্রামের ১০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, নদীর ভাঙনে সেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাধটি যেমন বিলিন হচ্ছে সেই সাথে চরখড়িবাড়ি মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পুরাতন ভবনটিও তিস্তা নদীর বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ধীরে ধীরে বিলিন হতে শুরু করেছে। হুমকির মুখে পড়েছে স্কুলটির নতুন ভবন।
টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, শুক্রবার চরখাড়িবাড়ির ১৭টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। শতশত পরিবার ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পুর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র সুত্র জানায় শুক্রবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর প্রবাহ ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। সকাল ৯টা ও দুপুর ১২টায় ৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পায়। বিকাল ৩টায় ২ সেন্টিমিটার ও বিকাল ৬টায় আরও ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। রাত ১২টার পর তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে শুরু করে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে জানায়, উজানে ঢলে ও ভারী বৃস্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি শনিবার সকাল ৬টায় ১৫সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ও সকাল ৯টায় তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপরদসীমার ২০সেন্টিমিটার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।