তিন তালাককে বৈধতা মানতে হলে নরবলি আর সতীদাহ প্রথাও জারি রাখা উচিত

102

যুগবার্তা ডেস্কঃ “১৪০০ বছরের প্রাচীন প্রথা বলে কি তিন তালাককে বৈধতা মানতে হলে তো নরবলি আর সতীদাহ প্রথাও জারি রাখা উচিত ছিল। ভারতের সুপ্রীম কোর্টে তিন তালাকের পক্ষের উকিল কপিল সিব্বলের মন্তব্যের বিরোধিতায় ৫ বিচারপতির বেঞ্চে তীব্র কটাক্ষ অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহাতগির। মঙ্গলবার শুনানি চলাকালীন কপিল সিব্বল এআইএমপিএলবি–র পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, তিন তালাক মুসলিম সমাজের শতাব্দী প্রাচীন প্রথা। তার প্রেক্ষিতেই অ্যাটর্নি জেনারেলের এই মন্তব্য। শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে বলে এটা কোনও ধর্মের প্রথা নয়। এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলাদের দাবিয়ে রাখার একটা পন্থা। পুরুষরা যেহেতু সমাজে বেশি ক্ষমতাবান এবং শিক্ষিত, সেই কারণেই এই প্রথার সাহায্য নেওয়া হয়। যাতে মহিলারা মাথা তুলতে না পারেন তার একটা পন্থামাত্র। এটাকে শুধুমাত্র ধর্মের দিক থেকে বিচার করা ঠিক হবে না। মুসলিম মেয়েদের অধিকার রক্ষার জন্যই তিন তালাক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত শীর্ষ আদালতের। মুসলিম ল বোর্ড অবশ্য এদিন
দাবি করেছেন শুধু স্বামীরাই নন, মুসলিম সমাজে স্ত্রীদেরও তিন তালাক দেওয়ার সমান অধিকার আছে। বুধবার শুনানি চলাকালীন, শীর্ষ আদালতকে এ কথা জানায় মুসলিম ল বোর্ড। নিকাহনামায় তার স্পষ্ট উল্লেখ থাকে বলেও জানানো হয়েছে। স্ত্রী তিন তালাক দেওয়ার পর মোহরানা ও দাবি করতে পারেন। এই অধিকারও মুসলিম মহিলাদের রয়েছে। মুসলিম ল বোর্ডের এই বক্তব্য শোনার পরে প্রধান বিচারপতি জগদীশ সিং খেহর আইনজীবী কপিল সিব্বলকে বলেন, মুসলিম মহিলাদের তিন তালাক প্রত্যাখ্যান করার অধিকার কি দেওয়া যায়?‌ প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুসলিম ল বোর্ড জানায়, ২০১৭–র ১৪ এপ্রিল আদালতে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল, কেউ তিন তালাক দিলে তাকে সমাজে বয়কট করা হবে। এই প্রস্তাব বাস্তবে কতটা কার্যকরী হয়েছে তা জানার জন্য এআইএমপিএলবিকে নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে কাজিরা সেই প্রস্তাব মেনে কাজ করছেন কি না তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এরপর সুপ্রিম কোর্ট আরও জানতে চায়, যদি মুসলিমরাই মনে করেন, তিন তালাক যুক্তিসঙ্গত নয়, সেই প্রসঙ্গে মুসলিম ল বোর্ডের কী মত? এর জবাবে ল বোর্ডের আইনজীবী ইউসুফ মুচালা বলেন, ‘‌যেভাবে তিন তালাক দেওয়া হয়, সেটা সঠিক পদ্ধতি নয়। তাই মুসলিম পুরুষদের এই প্রথার ব্যবহারে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। এই প্রথা যাতে অভ্যাসে পরিণত না হয়, সেটাও দেখতে হবে।”-সূত্রঃ ফেইসবুক