তাজরীন অগ্নিকান্ডের ক্ষতিপুরণের দাবিতে শ্রমিকদের প্রতীক অবস্থান

যুগবার্তা ডেস্কঃ আজ তাজরীন অগ্নিকান্ডের ৪র্থ বার্ষিকীতে ক্ষতিপূরনের দাবীতে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকরা প্রতীক অবস্থান পালন করেছে। জাতীয় গার্মেন্স ফেডারেশন আয়োজিত প্রতীক অবস্থান কর্মসূচীতে তাজরীন ফ্যাশনের শতাধিক ক্ষতিগ্রস্থ নিহত-আহত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেয়।
উল্লেখ্য যে, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকান্ডে ১১৩ জন শ্রমিক নিহত এবং দেড় শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছিল।
ফেডারেশনের সভাপতি জনাব আমিরুল হক্ আমিন এর সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক মিস সাফিয়া পারভিন, সহ-সভাপতি জনাব ফারুক খান ও যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মিসেস আরিফা আক্তার, কবির হোসেন, মোঃ রফিক, মিসেস নাসিমা আক্তার, ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রতীক অবস্থান কর্মসূচীতে সংহতি বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর সমন্বয়কারী জনাব কামরূল আহসান, ইন্ডাষ্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল এর নেতা জনাবা নাজমা আক্তার, জনাব রুহুল আমিন,জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি জনাব এম দেলোয়ার হোসেন ও একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব কামরুল হাসান।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকান্ডে নিহত শ্রমিকদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। আহত শ্রমিকদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা রানা প্লাজা নিহত ও আহত শ্রমিকদের প্রতি সম্মান ও সমবেদনা জানান। তারা টঙ্গীর ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিঃ এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত শ্রমিকদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, অবহেলা করে মানুষ হত্যার অপরাধে তাজরীন ফ্যাশনের মালিককে গ্রেফতার করা হলেও তাকে কৌশলে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তাজরীনের নিহত-আহত কিছু পরিবারকে কিছু ক্ষতিপুরণ দেওয়া হলেও বেশি সংখ্যক শ্রমিক এখনো ক্ষতিপূরণ পায় নাই। অল্প সংখ্যক আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে কিন্তু বেশির ভাগ শ্রমিক এখনো কোন ক্ষতিপূরণ পায় নাই। এসব শ্রমিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছে না – ফলে পঙ্গুত্তের দিকে যাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, তাজরীনের অগ্নিকান্ড একটি নিছক দূঘটনা নয়, এটি একটি অবহেলা জনিত শ্রমিক হত্যার শামিল। বাংলাদেশে এ যাবত শতাধিক কারখানা-অগ্নিকান্ডে কয়েক হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো বেশি। শত শত শ্রমিক পঙ্গুত্ত বরন করেছে। কিন্তু এই শ্রমিক হত্যার দায়ে আজ পর্যন্ত এক জন মালিকেরও বিচার হয়নি। সরকারের ধনিক এবং মালিক শ্রেণীর প্রতি দূর্বলতার কারনেই শ্রমিকেরা সঠিক বিচার পাচ্ছে না। এমনকি তাদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরনও পাচ্ছে না। এ কারনে এ ধরনের অপরাধ এবং দায়িত্বহীনতা দিনের পর দিন আরও বেড়ে চলছে, শ্রমিকেরা আরও বেশি অবহেলিত এবং বঞ্চিত হচ্ছে। এই বঞ্চিত অবহেলিত শ্রমিকদের শ্রমের ঘামে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা, সঠিক পাওনা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে দেশের এই উন্নয়নকে সভ্য উন্নয়ন বলা যাবে না।