তবু বাড়ি ফিরতেই হবে

37

যুগবার্তা ডেস্কঃ বর্ষণ, যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া, জনস্রোত, দুর্ঘটনা, যানবাহনের সংকট, ছাদে চড়ার ঝুঁকি—সব কিছু ছাপিয়ে, সব ভয় জয় করে ঈদ যাত্রা শেষ পর্যায়ে। আজ রাত পেরোলে আগামীকাল শনিবার পবিত্র ঈদুল আজহা।

এবার তিন দিনের সীমিত ছুটির মধ্যেই সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা বাড়ি যাচ্ছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য।

ঈদের সরকারি ছুটি শুরু আজ শুক্রবার। গতকাল সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও সদরঘাট থেকে লোকজন তাই ছুটে চলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

দুপুরে হঠাৎ মাঝারি বর্ষণে রাজধানীতে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ বেড়ে যায় পথে পথে। বিকেল থেকে রাজধানীর সব সড়কেই ছিল মালপত্র নিয়ে টার্মিনাল বা স্টেশনের দিকে যেতে উদগ্রীব মানুষের ভিড়।

রাজধানীর গণপরিবহনের বড় একটি অংশও যোগ হয়েছে দূরপাল্লার ঈদের যাত্রী পরিবহনে। ঢাকা ফাঁকা হতে শুরু করে গতকাল দুপুর থেকেই। ঢাকা নৌবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল। বিকেলের মধ্যেই ৫০টির বেশি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে চলে গেছে।
আরো ৬০-৭০টি লঞ্চ দূরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঝামেলা এড়াতে রাজধানী থেকে পরিবারের লোকজনকে বাড়িতে পাঠানো শুরু হয়েছিল সপ্তাহখানেক আগ থেকেই। শিল্প-কারখানাবহুল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশ এবং ঢাকার ভেতরের তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন কারাখানা ছুটি হওয়ায় ভাগ ভাগ হয়ে যাত্রীরা বাড়ি গেছে। আজও পোশাককর্মীদের বড় একটি অংশ উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় যাবে। গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আগের বছরগুলোর মতো তীব্র যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়িসহ বিভিন্ন ফেরিঘাটে অবশ্য ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
আগে রাত জেগে ভিড় ঠেলে আগাম টিকিট কিনতে হয়েছিল যাদের তাদের বড় অংশই গতকাল নির্ধারিত সময়ে বাস টার্মিনাল বা রেলস্টেশনে ভিড় করে। ভিড় করে সদরঘাটেও। সরকারি ছুটি আজ থেকে শুরু হলেও অনেকে এক দিনের বাড়তি ছুটি নিয়ে সকালেই ছুটে যায় টার্মিনালে, স্টেশনে। কেউ কেউ অফিসে নামমাত্র হাজিরা দিয়েই বিদায় নিয়েছেন।

এবার ঈদের তিন দিনের ছুটির মধ্যে দুই দিনই পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি কম হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বাড়তি ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছেন। দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত বাড়তি ছুটি নিয়েছেন তাঁরা।

ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে গতকাল দুপুর থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিতি সচিবালয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাজিরা দিয়েই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। দুপুর ১২টায় বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই এমন প্রস্তুতি নিয়ে সচিবালয় ছাড়তে দেখা গেছে। সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা কক্ষটিও ছিল ফাঁকা।

গতকাল ভোর থেকে কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে বাড়িমুখো মানুষের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। সকাল থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনের ছাদেই ছিল যাত্রী আর যাত্রী। কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে ছাদে না চড়ার আহ্বান জানালেও কোনো ফল হয়নি। বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে বিপরীত দিক থেকে ট্রেনে কমলাপুরে গিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে গন্তব্যের দিকে ছুটছিল অনেক যাত্রী। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানোর পর থেকেই আগেভাগে ছাদে জায়গা নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। রংপুর এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস নীলসাগর এক্সপ্রেস, ধূমকেতুসহ সব ট্রেনেই ভিড় ছিল উপচে পড়া।

ভোর থেকেই ট্রেনের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে পড়ে কমলাপুর স্টেশনে। গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ৫৫টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। রেলওয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসারে ছাড়েনি বেশির ভাগ ট্রেন। রাজশাহীর উদ্দেশে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ভোর ৬টার বদলে ৮টা ২০ মিনিটে, নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টার বদলে সাড়ে ১০টায়, রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টার পরিবর্তে সকাল ১১টায়, খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৭টা ২০ মিনিটের বদলে ৮টা ২০ মিনিটে ছাড়ে।

সময়সূচিতে বিপর্যয় দেখা দেয় রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার বাসেরও। যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে বিকেলে। এর আগে সকালে বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। তার সঙ্গে ফিরতি বাসের অপেক্ষায় ক্লান্ত ছিল তারা।-কালেরকন্ঠ