তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

80

যুগবার্তা ডেস্কঃ হত্যাকান্ডের গত ৮ দিন পর কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, সুরতহাল তৈরি ও পুন: ময়নাতদন্ত করতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দিয়েছে কুমিল্লার একটি আদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি একেএম মনজুর আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার বিকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বেগম জয়নাব বেগম তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কুমিল্লার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে এ আদেশ দেন।
এদিকে তনু হত্যাকান্ডের ৮দিন অতিবাহিত হলেও হত্যাকারীরা সনাক্ত কিংবা গ্রেফতার না হওয়ায় প্রতিদিনের ন্যায় সোমবারও কুমিল্লা মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী ছাত্র জনতার প্রতিবাদ- বিক্ষোভ ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী অব্যাহত ছিল।
সূত্র জানায়, গত ২০ মার্চ রাতে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে সেনানিবাস এলাকায় হত্যার পর লাশ তার সেনানিবাসের বাসার অদূরে একটি জঙ্গলে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে তার পিতা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে পরের দিন অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত ২০ মার্চ রাতে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে সেনানিবাস এলাকায় হত্যার পর লাশ তার সেনানিবাসের বাসার অদূরে একটি জঙ্গলে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে পর দিন ২১ মার্চ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাইফুল ইসলাম। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য গত ২৫ মার্চ রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়।
কিন্তু প্রাথমিক সুরতহাল ও লাশের ময়নাতদন্তে কিছু অসঙ্গতি থাকায় মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের পর সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি একেএম মনজুর আলম কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে নিহত সোহাগী জাহান তনুর মৃতদেহে আসামি কর্তৃক সৃষ্ট জখম শনাক্ত, মৃতদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা ও আলামত সংগ্রহ করে বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা ও সুরতহাল রিপোর্ট তৈরিসহ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের জন্য আদালতে এ আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কবর থেকে তনুর লাশ উত্তোলনের অনুমতি দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি একেএম মনজুর আলম জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, সুরতহাল তৈরি ও পুনঃ ময়নাতদন্ত করতে আদালতে আবেদন জানানো হয়। আদালত কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দিয়েছে। দুই দিনের মধ্যে লাশ উত্তোলন করা হতে পারে।