“তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি সম্পাদক পরিষদের

45

বাংলাদেশের সম্পাদকরা বলেছেন, এই ধারাটি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
রোববার সম্পাদক পরিষদের এক বৈঠকে একই দাবি উঠে আসে বলে সংগঠনরে সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপব্যবহার স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী সভায় এ আইনরে ১ ও ২ নম্বর ধারা অবিলস্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়।”৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- ওয়বেসাইটে প্রকাশতি কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে, এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবর্মূতি ক্ষুণ্ন হয়, তা হবে অপরাধ। এর শাস্তি অনধকি ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ১ কোটি টাকা জরমিানা।

২০০৬ সালে হওয়া এ আইনটি ২০০৯ ও ২০১৩ সালে দুই দফা সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ সংশোধনে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড করা হয়। আর ৫৭ ধারার অপরাধকে করা হয় অজাসিনযোগ্য। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে নিয়ে এক ফেইসবুকে স্ট্যাটাসের পর গত সপ্তাহে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে করা এক মামলায়।

গণজাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিলেও ৫৭ ধারা বাতলিরে দাবি করলে।এরপর তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জোরালো ভাবে ওঠে আবার। এর মধ্যে প্রবীর সকিদারকে জামিনও দেওয়া হয়। এর এক সপ্তাহ পর সম্পাদক পরিষদ ৫৭ ধারায় প্রবীর সকিদারকে গ্রপ্তোররে নিন্দা জানিয়েছে।
পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সম্পাদক পরিষদ সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের গ্রেপ্তার ও হয়রানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে”।৫৭ ধারাটি মত প্রকাশরে সাংবিধানিক স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে এর সমালোচকদের দাবি।

অধিকারকর্মী, অনলাইন অ্যাক্টভিস্টিসহ বিভিন্ন মহল থেকে তথ্য প্রযুক্তি আইনরে ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি উঠলেও তা প্রত্যাখ্যান করে আসছনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
ইনু বলছনে, ৫৭ ধারা বাতিলের কোনো ‘সুযোগ নাই’।“এর সমালোচনা যুক্তিযুক্ত না। বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক অবস্থায় নাই।”

গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে সম্পাদক পরিষদের বৈঠকে ছিলেন মতিউর রহমান চৗেধুরী, মতিউর রহমান, রিয়াজউদ্দিন আহমদে, শ্যামল দত্ত, ইমদাদুল হক মিলন, নঈম নিজাম, আলমগীর মহিউদ্দিন, তাসমীমা হোসনে, এম শামসুর রহমান, সাইফুল আলম, দেওয়ান হানিফ মাহমুদ ও জাফর সোবাহান।