ঢাকা নগর আ. লীগ দু’ভাগ করে কমিটি ঘোষনা

58

যুগবার্তা ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরকে উত্তর ও দক্ষিণ ভাগে বিভক্ত করে দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এ কে এম রহমতউল্লাহ এমপি এবং দক্ষিণে সভাপতি আবুল হাসনাত।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম রোববার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।
মহানগর কমিটির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে নতুন কমিটিতে কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি। শুরুতে বিভক্ত কমিটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহ না দেখালেও পরে উত্তরের সভাপতির পদ চেয়েছিলেন ত্রাণমন্ত্রী মায়া। তাকে সামনে দলে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে ।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগরের সদ্য বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি রহমতউল্লাহর সঙ্গে উত্তরের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেক খান।
লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতকে দক্ষিণের সভাপতি করে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সদ্য বিদায়ী অবিভক্ত মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদকে।
ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে বিগত কমিটির প্রয়াত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের নাম চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু তার মৃত্যুর পর ওই পদে একজন ‘ঢাকাইয়াকে’ চাইছিলেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।
এর ধারাবাহিকতায় লালবাগের নেতা আবুল হাসনাতকেই দক্ষিণের সভাপতি পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়। গত ১১ মার্চ গণভবনে ডেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সাথে কথাও বলেন।
১৯৮৬ সাল থেকে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব চালিয়ে আসা হাসনাত ১৯৯৩ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে হাজী সেলিমের কাছে হেরে যান। ওই নির্বাচনেই ঢাকার মেয়র হয়েছিলেন মোহাম্মদ হানিফ।
দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া শাহে আলম মুরাদের জন্ম বরিশালে হলেও আশির দশকে তিনি লেখাপড়া করেছেন পুরান ঢাকার তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে। মূলত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলেই তার রাজনৈতিক উত্থান।
মুরাদ ১৯৮০ সালে লালবাগ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে ১৯৮৩ সালে বৃহত্তর ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০৩ সালে তাকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হন। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে তৎকালীন ঢাকা-৫ আসনের (বাড্ডা-গুলশান-উত্তরা) সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি।
২০০২ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ার পর এখনও তিনি ওই দায়িত্বে রয়েছেন।
ঢাকা ১০ আসনের সাংসদ রহমতউল্লাহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান, এফবি ও ফুড বেড ফুটওয়্যারের সভাপতি এবং ট্যানারি, ডাইচিপেক্স টেক্সটাইল মিলস ও এপেক্স প্রোপার্টির এমডির দায়িত্বেও আছেন তিনি।
উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এক সময় মোহাম্মদপুর এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার ছিলেন। ২০০২ সাল থেকে বৃহত্তর মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। সাদেক নগর নামে মোহাম্মদপুরে একটি এলাকাও গড়ে উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগরীর ৪৯টি থানা ও ১০৩টি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।
২০০৩ সালের ১৮ জুন সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়র মোহাম্মদ হানিফকে সভাপতি ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি করা হয়েছিল। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর হানিফের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এম এ আজিজ।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর সম্মেলন করার কথা থাকলেও প্রায় সাড়ে ৯ বছর পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর।
সম্মেলনে আগের কমিটির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এম এ আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে নতুন কমিটি ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়াই এক মেয়াদের বেশি সময় আগের কমিটির নেতারাই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।