ঢাকার জলাবদ্ধতায় ক্ষতি হবে ১১ হাজার কোটি টাকা

51

যুগবার্তা ডেস্কঃ ঢাকার জলাবদ্ধতার ফলে ২০১৪ থেকে ২০৫০ পর্যন্ত ১১০ বিলিয়ন টাকা সম্ভাব্য ক্ষতি হবে- যা বাংলাদেশি টাকায় ১১ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে তীব্র বৃষ্টিপাত হলে এ ক্ষতির পরিমান ১৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে।
বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দুটি প্রতিবেদন সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ঢাকাস্থ বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আনিসুল হক। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের পরিবেশ অর্থনীতিবিদ সুসমিতা দাসগুপ্ত। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বন্যা এবং জলাবদ্ধতা নিয়মিত জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে ঢাকা নিচু অঞ্চল এবং বস্তি এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টি, অতিবৃষ্টিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামীর দশকগুলোতে এ সমস্যা আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব মোকাবেলায় বৃহত্তর ঢাকার জন্য প্রয়োজন আধুুনিক নীতি এবং বড় বিনিয়োগ।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্ষাকালে ঢাকা শহরের জলাবন্ধতা দূর করতে বছরে ২৭০ কোটি টাকা ব্যয় করা প্রয়োজন। এ অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হলে বর্ষাকালে ঢাকা মহানগরির প্রতিটি ওয়ার্ডে ১২ ঘন্টা পাইপ লাইনের মাধ্যমে জমে থাকা পানি নিষ্কাষণ করা সম্ভব হবে। একইসাথে একটি মাস্টার প্লানের আওতায় ঢাকার নর্দমা ব্যবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপখাইয়ে এ অবস্থার উন্নতি করতে ব্যয়ের পরিমান ১৩০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করতে হবে।
মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘ঢাকা শহরে ৫৬ টি সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। আর মেয়র এসব প্রতিষ্ঠানের চিফ ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক কোনো সমন্বয় নেই। মেয়র হিসেবে আমার ঝাড়ু দেয়া আর কিছু ফুল-টুল লাগানো ছাড়া কোনো কাজ নেই।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি একজন মেয়র, কিন্তু ঢাকার কোনো খালের উপর আমার নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রভাবশালীদের কারণে ঢাকা শহরের সব খাল-ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চরম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’