ডিজিটাল পাঠ্যবই আসছে ২ হাজার স্কুলে

96

যুগবার্তা ডেস্কঃ দুই হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কন্টেন্ট দিয়ে পাঠদান অচিরেই শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
সোমবার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ভবনে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ‘ডিজিটাল কন্টেন্ট উপস্থাপন’ অনুষ্ঠানে তিনি এই আশাবাদ প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অনুমোদন দিলেই এটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করতে চাই। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দুই হাজার স্কুলে এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানও ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা প্রদানের বিষয়টিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
“আমার কাছে যদি একটা আলাদীনের চেরাগ থাকত, তাহলে এক বোতামে চাপ দিয়ে সকল শিক্ষককে পাঠদানে মনোনিবেশ করানো যেত। তারা ফাঁকি-ঝুকি দিচ্ছে কি না, জানা যেত। প্রযুক্তি আমাদের সে সুযোগ দিচ্ছে। এতে শিক্ষা প্রদান প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসবে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতেই তৈরি করা ডিজিটাল কন্টেন্টগুলো সম্বন্ধে ধারণা দেওয়া হয়। এগুলো যৌথভাবে তৈরি করেছে আইসিটি বিভাগ, ব্র্যাক এবং সেভ দ্য চিলড্রেন।
প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির মোট ৩৪টি বইয়ের মধ্যে ১৭টি ডিজিটাল ভার্সনে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, যাতে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
জুনাইদ বলেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ গড়তে হবে। সেই সোনার মানুষ গড়তে হলে সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। গণমুখী ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত শিক্ষা প্রদান করতে হবে।
“আমি নিজে ইন্টারনেটে দেখেছি, বাংলা ভাষার মানসম্মত শিক্ষা উপকরণের অভাব। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমাদের যে কন্টেন্টগুলো তৈরি হয়েছে, এই মুহূর্তে বাংলা ভাষায় এগুলোই সেরা।”
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষাকে আমরা এখনও আনন্দদায়ক করতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাভীতি রয়েছে।”
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি চালু থাকায় মান সবার জন্য সমান করারন সমস্যাটিও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর দুই মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “এখনও অনেক প্রাথমিক স্কুলে বিদ্যুৎ নেই, বিদ্যুৎ ছাড়া এ কন্টেন্টগুলো ইউজেবল হবে না। তাই আগে স্কুলগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবস্থাও করতে হবে।”
এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ বলেন, “যে স্কুলগুলোতে বিদ্যুৎ রয়েছে আগে সেগুলোতেই এ প্রকল্প শুরু করা হবে। পরে ধীরে ধীরে যখন সব স্কুলেই বিদ্যুৎ পৌঁছাবে, তখন সেগুলোতেও চালু করা যাবে।”
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মেজবাহ কামাল, আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র পাল, সেভ দ্য চিলড্রেনের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শফিকুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন। বিডি নিউজ২৪.কম