ডাক্তার এবং সামাজিক দায়িত্ব

241

ডাক্তার এবং সামাজিক দায়িত্ব
রোগীর সিরিয়াল দিতেও চলে ঘুষের বানিজ্য।গতকাল কোন ডাক্তার এর কাছে গিয়েছিলাম আমার এক আত্মীয়কে দেখাতে,আমাকে বলা হয়েছিল সকাল ৮টায় সিরিয়াল দিতে ,আমি ৮টার ৫মিনিট আগেই মোবাইলে কল দিই।আমার সিরিয়াল হল ১৫।এত তাড়াতাড়ি ১৫ সিরিয়াল কিভাবে হল তার বিচারের ভার আপনাদের বিবেকের উপর ছেড়ে দিলাম।আমি এমনও শুনেছি অনেক ভূয়া নাম লিখে রাখা হয় এবং সেই নামের জায়গায় টাকার বিনিময়ে পরে এসে আগে সিরিয়ালে চলে যায় অথচ কত সিরিয়াস রোগী এমনকি বয়োঃবৃদ্ধ মানুষ অসহায় ভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকে সে দিকে কারো খেয়াল নেই। এরই নাম কি সেবা? দেখার কেউ কি কেউ নেই? এরপর রোগী দেখাতে গেলে যে কি অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় তা আর বললাম না।এ অভীজ্ঞতা কম বেশী সবারই আছে।
‘Patient’ শব্দটা গ্রহণ করা হয়েছে Latin Patiere শব্দ থেকে। যার অর্থ হলো ‘who seeks help for illness’। তাহলে Doctor- Patient-এর শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায় ‘একজন রোগাক্রান্ত ব্যক্তি অন্য একজন জ্ঞানী বা দক্ষ ব্যক্তির কাছে রোগ নিরাময়ের জন্য অসহায়ের মতো সাহায্য প্রার্থনা করছেন। সুতরাং দুয়ের মধ্যে ডাক্তারের দায়িত্ব রোগীর চেয়ে শতগুণ বেশি। মনে রাখতে হবে, যে কোনো দিন যে কেউ রোগী হতে পারেন, এমন কি ডাক্তার সাহেব নিজেও, তার নিকটাত্দীয় স্বজনও। কিন্তু যে কেউ চাইলেই যখন-তখন ডাক্তার হতে পারেন না। তাকে একটা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে, ধাপে ধাপে, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে কঠোর পরিশ্রম এবং সাধনার মাধ্যমে ডাক্তার হতে হয়। চিকিৎসক হতে হলে মেডিকেল কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে, প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতি পর্যন্ত প্রতিটি স্তর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থানের বিবেচনায় হতে হবে।আমি প্রথমেই বলে নিচিছ যে, আমি সব ডাক্তারের দোষারোপ করছিনা ।আমার কিছু স্টুডেন্টরাও ডাক্তার আছেন যাদের আমি হাউজ টিউটর ছিলাম।পৃথিবীতে সব ধর্মের মূল বানী হচেছ মানবতার কল্যানে নিজেকে উৎসর্গ করা।কারন মানব সেবাতেই পরম ধর্ম বিদ্যমান।সেই হিসাবে একজন ডাক্তারের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে দুঃস্থদের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করা। অথচ প্রায় ডাক্তারই সেটা না করে এমন তুচছ,তাচিছল্য ভাবে একজন রোগীকে treat করে, মনে হয় তারা জীবনে সেবা শব্দটি কখনও শুনেনি এবং পড়েও নি, এমনকি কিছু ডাক্তার আছে তারা অপারেশন থিয়েটারে বসে শেয়ারের ব্যবসাও করে। এরা সরকারী কোষাগার থেকে বেতন নেয় অথচ সেখানে কতটুকু সময় দেয়, তা আপনারাই জানেন।এদের কারো চেম্বারে
চিকিৎসার জন্য গেলে মনে হয় পৃথিবীর অন্যতম কষাইখানায় এসেছি।
মহৎপ্রাণ মানুষরা নিজের জন্য নয় অন্যের কল্যাণে নিবেদন করেন। নিজের সব ধন ও ধ্যান-ধারণাকে উৎসর্গ করেন অন্যের কল্যানে।টাকা মানুষের প্রয়োজন এটা যেমন সত্যি তেমনি প্রয়োজনের তুলনায় টাকা বেশী হলে তখন মানুষের মধ্যে অমানুষের চরিত্র develop করে এটাও সত্যি। লেখকঃ আবুল বাসার খান, চাকুরিজীবী,বরিশাল