ট্রাম্প বিশ্বকে অনেক বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছে: করবিন

23

যুগবার্তা ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সিরিয়া ও উত্তর কোরিয়ায় ক্রমাগত দ্বন্দ্বের ফলে বিশ্ব অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার ব্রিটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন একথা বলেন। লন্ডনের চ্যাথাম হাউজে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বক্তৃতায় তিনি বলেন, ট্রাম্প বৈশ্বিক বিদ্যমান সমস্যাগুলো বাড়াতে প্রুতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন,বৈশ্বিক অবস্থা আরো বেশি জটিল হয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে আরো জটিলের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করে, সিরিয়ায় মিসাইল হামলা চালিয়ে, ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তির বিরোধিতা করে এবং রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা সমর্থন করে। এক্ষেত্রে তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন করার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে অভিযুক্ত করেন।
তিনি বলেন, মে ট্রাম্পের সঙ্গে ঝুঁকি ও অনিরাপত্তার জোট গঠনের দিকে যাচ্ছেন। তিনি তো সিরিয়ার যুদ্ধ আরো বাড়াতে চান। আগামী ৮ জুনের নির্বাচনে জয়ী হলে সিরিযায় বিমান হামলা বন্ধ করবেন করবিন।
তিনি বলেন,সকল যুদ্ধ ও দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক কৌশলেই বন্ধ করা যায়। লেবার পার্টি কনজারভেটিভ পার্টির সঙ্গে জনপ্রিয়তার দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছে। আমরা মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে একটা শক্তিশালী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করতে চাই। তাই বলে আমরা সত্য বলতে ভয় পাইনা।
তিনি মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন,বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের। তাই তাদের শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্নবান হওয়া উচিত এবং শান্তিপূর্ণভাবে বৈশ্বিক দ্বন্দ্বের সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক চেষ্টাকে সমর্থন করা উচিত। আমরা দেখব শক্ত নেতৃত্ব ছাড়া ওয়াশিটনে কোন দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়। মার্কিন নেতৃত্বই আফগানিস্তান,ইরাক,লিবিয়া,সিরিয়ায় পরিবর্তন করেছে। এবং বিশ্বটাকে আরো বেশি জটিল করেছে।
তিনি বলেন, এটা ব্রিটেনের চতুর্থ সাধারণ নির্বাচন,অথচ ব্রিটেন যুদ্ধ করছে এবং আমাদের সেনারা মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশে যুদ্ধে নিয়োজিত। যুদ্ধ দেশে অনিরাপত্তার জন্ম দেয় এবং বিদেশেও অস্থিতিশীলতা ও ধ্বংসযজ্ঞ তৈরি করে। তাই আমাদের যুদ্ধ থেকে ফিরে আসতে হবে এবং ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে।
বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্কিন জোটের সঙ্গে ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গি দমনে বিমান হামলায় অংশ নেয়। তিনি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লন্ডনের জড়িত থাকার বিষয়ে কঠোর সমালেচনা করেন।
নতুন এক জরিপে দেখা যায়, অনেক ব্রিটিশ ভোটাররা লেবার পার্টির নতুন ইশতেহার সমর্থন করেছে যাতে সামাজিক সেবা বাড়ানোর অঙ্গীকার দেওয়া হয়েছে। জরিপটি পরিচালিত হয় লেবার পার্টির ইশতেহার ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যে। পার্টিটি ৪৩ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহার দেয়।-আামাদের সময়. কম