টার্গেট ২১ আগস্ট মামলার রায়; তারেকের নেতৃত্বে ভয়ংকর জঙ্গী হামলার ছক

যুগবার্তা ডেস্কঃ একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়কে সামনে রেখে শুরু হয়েছে লন্ডন ষড়যন্ত্র। লন্ডন ষড়যন্ত্র করছে লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে তারেক রহমান। একুশে আগস্ট মামলার রায়ের দিন দেশব্যাপী নাশকতা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ছক কষা হচ্ছে। আর এর জন্য মদদ দিচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই কানেকশনে ষড়যন্ত্র মেতে উঠেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার দাবি। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়কে সামনে রেখে নাশকতার ছক কষছে তারেক রহমান। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে রাজনৈতিক তৎপরতার আড়ালে জঙ্গী তৎপরতা, উগ্র মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগসহ নানামুখী ষড়যন্ত্রের চাল দিচ্ছেন তিনি। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী হওয়ার পর থেকেই আইএসআইয়ের শলাপরামর্শ অনুযায়ী তিনি বিএনপির নীতি নির্ধারণীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এ ধরনের ষড়যন্ত্র ও ছক কষার বিষয়টি ঢাকার গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই লন্ডনে বসে তারেক রহমানের নাশকতার ছক কষার বিষয়টি ঢাকার গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতের সংবাদ মাধ্যমেও সম্প্রতি লন্ডনে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা প্রতিবেদনের কথা উলেøখ করে বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্দী হওয়ার পর লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হওয়ার পরই তার সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই কানেকশন বেড়ে যায়। আইএসআই কানেকশন বেড়ে যাওয়ার কারণেই লন্ডনে বাংলাদেশের দূতাবাসে সহিংসতা ঘটিয়ে তার নেতৃত্ব জানান দেন তিনি। এমনকি বিএনপির নীতি নির্ধারণীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সাহায্য-সহযোগিতা করে চলেছে আইএসআই। তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হওয়ার পর উপমহাদেশের সক্রিয় মৌলবাদী ও জঙ্গী নেতাদের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই আইএসআইয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ কার্যত মৌলবাদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। সেই মৌলবাদ-জঙ্গীবাদের উত্থান শুধু বাংলাদেশকে এখনও জঙ্গীবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হতাহতের মতো ভয়াবহ পরিণতির ঝুঁকি নিয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছে। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন নিয়মিত পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে ˆবঠক করছেন এবং তাদের নির্দেশনাগুলোই দলের নেতাদের জানাচ্ছেন, যা দলীয় নেতারা আঁচ করতে পারছেন না বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাবি।
গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানান, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়কে সামনে রেখে লন্ডনে বসে তারেক রহমান ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। রায় ঘোষণার পর দেশব্যাপী নাশকতা ছড়িয়ে দেয়ার ছক কষার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। ছাত্রদের কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নাশকতার উস্কানি দিতে লন্ডন থেকে টেলিফোনে বিএনপির নেতা ও পেশাজীবীদের সঙ্গে কথা বলে উস্কানি দিয়েছে, যার অডিও টেপ হস্তাগত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের দেয়া পরামর্শ পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশে নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসিত তারেক রহমান। বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের যোগাযোগের ঘটনা ফাঁস হয় একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও চট্টগ্রামের দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনার তদন্তে। তবে চিকিৎসার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লন্ডনে আইএসআইয়ের সঙ্গে ˆবঠকের খবরটি ছড়িয়ে পড়ে, যা নতুন করে তারেক রহমানের আইএসআইয়ের কানেকশন আলোচনায় আসে। খুব গোপনীয়ভাবে সেন্ট্রালন্ডনে একটি হোটেলে আইএসআইর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ˆবঠকে বসেছিলেন তারেক রহমান যেখানে উপস্থিত ছিলেন লন্ডনে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন আরেক যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জামান এবং লন্ডনের জামায়াতের কয়েকজন নেতা। এসব অভিযোগের তথ্যের তদন্ত পর্যায়েই লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন অফিসে হামলা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর, একাত্তর টিভির সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামের ছিনতাই, সাম্প্রদায়িক শ্লোগান দিয়ে মিছিলসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের যেসব নেতা, কর্মী, ক্যাডার সংগঠিত করে সন্ত্রাস চালানোর ঘটনাটিতে আইএসআই কানেকশন বিষয়ে তথ্য পায় গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানান, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী হওয়ার পর লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের ওপর দেশী-বিদেশী গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী লন্ডনের পাকিস্তান এম্বাসিতে কর্মরত জুনায়েদ নামের এক ব্যক্তি যিনি সম্ভবত পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর আন্ডার কাভার একজন অফিসার, তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। জুনায়েদের এর মাধ্যমে পাকিস্তানের আইএসআইর পূর্বাঞ্চল গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা রিয়াজ আশফাক ও দেখা করেছেন। লন্ডনে পাড়ি জমান এবং বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। জুনায়েদ এবং রিয়াজ এর সঙ্গে লন্ডনের সেইন্ট জেমস কোর্ট এরিয়াতে অবস্থিত একটি হোটেলে ˆবঠক করেছেন তারেক রহমান। এর আগে থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় রয়েছে আইএসআইর এই দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তার।
গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, দুর্নীতির সাজা মাথায় নিয়ে লন্ডনে বসে তারেক রহমানের ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়ার পরই সরকারের নীতি নির্ধারক মহল নড়ে চড়ে বসে। লন্ডনে বসবাসকারী বিএনপির নেতা, কর্মী, ক্যাডারদের তারেক রহমানের নেতৃত্বেই সংগঠিত হয়ে বিভিনś সময়ে লন্ডনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে চলেছে আইএসআইর ইশারায়।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে মারা গেলেও তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে নেই। নতুন করে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কারাগারে থাকা নেতারাও বিশেষ কৌশলে বাইরে থাকা জঙ্গি সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে সারা দেশে বিশেষ কাটআউট পদ্ধতিতে তারা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে জেএমবি সদস্য বাড়াতে তৎপর রয়েছে। তাদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের পাশাপাশি উগ্র-মৌলবাদে বিশ্বাসে কিছু ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের গোপন আঁতাত রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাদের কর্মকান্ড প্রকাশ পেতে পারে। নির্বাচনের আগে ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা শহর এবং গ্রামপর্যায়ে নির্বাচনের মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। ধর্মভীরু নারী-পুরুষকে কৌশলে দলে টেনে হামলা নাশকতায় কাজে লাগাতে পারে। সেই সঙ্গে সুযোগমতো রাজনৈতিক সমাবেশেও তারা হামলা চালাতে পারে। এ ধরনের ভয়াবহ আগাম তথ্য পেয়ে এরই মধ্যে গোয়েন্দারা মাঠপর্যায়ে জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছেন। গত কয়েক মাসে সারা দেশে গ্রেপ্তার হওয়া অর্ধশতাধিক জঙ্গি সদস্য গ্রেপ্তার করা করা হলেও এখনো অনেক জঙ্গি সদস্য অধরা রয়ে গেছে।
পুলিশ ও র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্য মতে, জেএমবিতে এখনো অনেক বোমা ˆতরির কারিগর রয়েছে। বিভিনś সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবি সদস্যদের মধ্যে কেউ বলছে শতাধিক আবার কারো কারো মতে তার চেয়েও বেশি। এর আগে জেএমবির ২০ সদস্য শীর্ষ আল-কায়েদা নেতা মোল্লা ওমরের কাছে বোমার প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। তারা এখন দেশে। বাকিদের মধ্যে ২৫ জন রয়েছে, যারা সম্প্রতি ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া বোমা মিজানের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া। অন্যদের মধ্যে ১০ জন শীর্ষ জঙ্গি নেতা সোহেল মাহফুজের কাছে থেকে। আর ৪০ জন, অন্য জঙ্গি নেতা ওসমান, নাজমুল ও শিবলুর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেয়। এভাবে প্রায় ১০০ প্রশিক্ষিত বোমার কারিগর স¤পর্কে তথ্য পেয়ে তাদের ধরার চেষ্টা করছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবি সদস্যদের কাছ থেকে আগেśয়াস্ত্রসহ সমরাস্ত্র প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, বোমার ব্যাটারি, গান পাউডার, ডেটোনেটর, চাপাতি, উগ্র জঙ্গিবাদী বই ও ধর্মীয় উসকানিমূলক প্রচারপত্রসহ বিস্ফোরক সরঞ্জাম ও ইলেকট্রিক সার্কিট উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব যুদ্ধ সরঞ্জাম জঙ্গিরা দেশে নাশকতা চালানোর জন্য মজুদ করেছিল বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তারা র‌্যাবকে আরো জানিয়েছে, তাদের কাছে আরো বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, বোমা সরঞ্জাম মজুদ আছে।
জেএমবি বর্তমানে একাধিক গ্রæপে ভাগ হয়ে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত রয়েছে জানিয়ে এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ঢাকাতেও জেএমবি সক্রিয় রয়েছে। তাদের কেউ ফুটপাতে চা বিক্রি করছে। কেউ ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা। আবার কেউ বিভিনś অফিসের নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকার উপকণ্ঠ সাভার ও কেরানীগঞ্জের পাশাপাশি গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তাদের এখনো অনেক সদস্য রয়েছে। বর্তমানে ঢাকার বাইরে জেএমবির বড় একটি অংশ বাগেরহাটে অবস্থান করছে। সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালেও তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। এসব এলাকায় তারা ছদ্দবেশে অবস্থান করছে। অর্থের জোগান বাড়াতে ডাকাতির সঙ্গেও তাদের স¤পৃক্ততা পাওয়া গেছে।