জ্বালানী তেলের দাম কমানোর দাবিতে ওয়ার্কার্স পার্টির সংবাদ সম্মেলন

62

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানী তেলের দাম কমানোর দাবি জানান। তোপখানা রোডে শহীদ আসাদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড নুরুল হাসান, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপ, কমরেড কামরূল আহসান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তপন দত্ত, কমরেড করম আলী,কেন্দ্রীয় বিকল্প সদস্য কমরেড আমিরুল হক আমিন, কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বলেন, সরকার গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে, যার প্রভাব ইতিমধ্যে বাজার সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে সিএনজি ও বাসভাড়া বৃদ্ধি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এতে জনজীবনে সংকট বাড়ছে। বক্তব্যে আরও বলেন, এ মাসের প্রারম্ভে “জ্বালানী নিয়ন্ত্রক কমিশন” বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা করে। অথচ এই সংস্থা গত ফেব্রুয়ারী মাসে গণ শুনানী করে, যেখানে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ অংশ নেয়। শুনানীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কোন যৌক্তিকতা দেখাতে পারেনি। আপনারা জানেন দেশে অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র জ্বালানী তেল নির্ভর। সরকার ভূর্তুকী মূল্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন ঐ সকল কেন্দ্রে জ্বালানী তেল সরবারহ করে।
সম্মেলনে অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য অবিশ্বাস্যভাবে কমেছে। সৌদি আরবে এখন এক লিটার পানির দামের চেয়ে ১ লিটার তেলের দাম কম। বিশ্ববাজারে তেলে মূল্য কমে ৪০ থেকে ৫০ ডলারে নেমেছে। বিশ্বের অনেক দেশ তেলের মূল্য কমিয়েছে। এমন কি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও জ্বালানী তেলের দাম কমিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে জ্বালানীর দাম কমানো হয়নি। জ্বালানী তেলের দাম কমানোর দাবী করা হলে, জ্বালানী সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যাক্তিরা মূল্য না কমানোর হুংকার দেন। যা অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক।

লিখিত দাবী সমূহ তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য স্থগিত করতে হবে, প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে শিল্প উৎপাদন, সার ও গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, গৃহস্থলী কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে মিটার ব্যবস্থা প্রচলন, তিনটি স্লাবে বিভক্ত করে গ্যাসের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা যেমন (ক) সর্বনি¤œ ব্যবহারকারীর জন্য মূল্য বৃদ্ধি না করা (খ) মধ্যম ব্যবহারকারীর জন্য মধ্যম মূল্য এবং (গ) উচ্চহারে গ্যাস ব্যবহারকারী উচ্চ মূল্য নির্ধারণ, ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ীতে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে, গৃহস্থলী কাজে “লিকুই পেট্রোলিয়াম গ্যাস” (খচএ) গ্যাস ব্যাপক ব্যবহারের ব্যবস্থা করা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে তা সরবারহের নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাজার দরের সাথে সমন্বয় করে জ্বালানী তেলের মূল্য কমানোর ব্যবস্থা করা, সিএনজি ও বাসভাড়া বৃদ্ধি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জনস্বার্থে এবং যাত্রী সাধারণের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
গত ১৫ই সেপ্টেম্বর এই মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ওয়ার্কার্স পার্টি দেশব্যাপী প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বলে সাংবাদিকদের অবহতি করেন।