জ্বালানী খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে–জি এম কাদের

স্টাফ রিপোটার : জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, জ্বালানী খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। দেশের মানুষ জানতে চায়, প্রতি বছর কত হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে জ্বালানি খাতে। কারা এই দুর্নীতির সাথে জড়িত? দুর্নীতির সাথে জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বিচারের মুখোমুখি করতে হবে দুর্নীতিবাজদের। তিনি বলেন, সরকার বলছে জ্বালানি তেলের মূল্যে ভর্তুকি দিচ্ছে। আসলে কোন ভর্তুকি দেয়নি সরকার। কয়েক বছরে ৪২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে, সেই টাকা দিয়েই তেলের মূল্য সমন্বয় করলে তেলের দাম বাড়াতে হতো না। তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষকে মৃত্যুর যন্ত্রণার মুখে ঠেলে দিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে সরকার দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে।

আজ বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডের ঈদগাহ মাঠে মিরপুর ও শাহ্আলী থানার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এসব কথা বলেন।

এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, প্রতিবছর কারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে, তাদের তালিকা জানতে চায় দেশের মানুষ। পাচারকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। গেলো বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সরকার পাচারকারীদের তথ্য প্রকাশ না করে নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দুর্নীতিবাজ ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অপরাধীদের পক্ষ নিচ্ছে সরকার। তাই, সাধারণ মানুষ মনে করছে বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের বাঁচাতে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করছে না। সরকার পানামা ও প্যারাডাইজ পেপারস কেলেঙ্কারির তদন্ত করেনি। কারণ, নিজেদের লোকজনের নাম প্রকাশ হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, যখন বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম বেশি ছিলো, তখন তেলের দাম বাড়েনি। যখন তেলের দাম কমেছে তখন তেলের দাম বাড়লো কেন? ২০১৪ সাল থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি করে ৪২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছেন। মুনাফার সেই টাকা কোথায় গেলো ? ক্যাপাসিটি চার্জের নামে ৮৭ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। সকল লুটপাটের জবাব দিতে হবে।

এসময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে। কিন্ত সরকার কেন প্রস্তুতি নিতে পারলো না? মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে যদি কিছু বলেন, সরকারকে তা শুনতে হবে। কারণ, বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মত হোক আমরা তা চাইনা।

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর উত্তর এর সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম পাঠান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম সেন্টু, মোস্তফা আল মাহমুদ, আতিকুর রহমান আতিক, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এম এ কুদ্দুস খান, আমানত হোসেন আমানত, মাহবুবুর রহমান লিপটন ।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন – চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মমতাজ উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব শামসুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দিন, কাজী আবুল খায়ের, দফতর সম্পাদক -২ এম এ রাজ্জাক খান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য এডভোকেট আবু তৈয়ব, সমরেশ মন্ডল মানিক, ডাঃ সেলিমা খান, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শাহ আলী থানা আহ্বায়ক মাহফুজ মোল্লা, সদস্য সচিব রাজ মোহাম্মদ ওমর, মীরপুর থানা আহ্বায়ক ড: নাসির উদ্দিন বকুল ও সদস্য সচিব মোঃ আলমগীর হোসেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন -কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম দুলাল, আলমগীর হোসেন, নেতা আব্দুস সাত্তার এলাহান উদ্দিন, তাসলিমা আকবর রুনা, শাহিন আরা সুলতানা রিমা, এ এম এন সেলিম, এম এ হাশেম, আব্দুস সালাম লিটন, আবুল বাশার, মোনাজাত চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী খান, নজরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান বিপুল, প্রিন্সিপাল মোস্তফা চৌধুরী, শাহজাহান মিয়া, মীর পারভেজ, ফারুক আহমেদ, মোতাহার হোসেন, ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও মুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিলয়। রফিকুল ইসলাম তিমিল, শিপলু নোমান চৌধুরী।