জেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা বিজয়ী

যুগবার্তা ডেস্কঃ পার্বত্য জেলা বাদে সারা দেশের ৫৯ জেলায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোলা ও ফেনী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ওই দুই জেলায় ভোটগ্রহণ করা লাগেনি। আজ ৫৯ জেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিতে। নির্বাচনে বিভিন্ন জেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা।
বরিশাল বিভাগঃ
বরিশাল জেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মইদুল ইসলাম আনারস প্রতীকে ৯৬৮ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৫৫ ভোট।
বরগুনা জেলায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৫৯৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক এমপি জাফরুল হাসান ফরহাদ পেয়েছেন ১৭ ভোট। বাতিল হয়েছে ২ ভোট।
ঝালকাঠি জেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নির্বাচন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ২১ আসনের ১৯টি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছে। সদস্য পদে সোবাহান খান ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নাসরিন সুলতানা মুন্নী বিজয়ী হয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগঃ
রাজশাহী জেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার ৭৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ সমর্থিত মাহাবুব জামান ভুলু পেয়েছেন ৪১৫ ভোট। বগুড়ায় হাইকোর্টের নির্দেশে বগুড়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও তিনটি সাধারণ সদস্য পদের নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেছে। শুধু ১২টি ওয়ার্ড ও ৫টি সংরক্ষিত আসনে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগঃ
চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আলহাজ্ব ওসমান গনি পাটওয়ারী। তিনি মোবাইল প্রতীকে ৭৭০ ভোট পেয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূরুল আমীন রুহুলকে ৩৫৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ঘোড়া মার্কা নিয়ে রুহুল পেয়েছেন ৪১৪ ভোট।
কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নৌ-বাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. আবু তাহের এক হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপন পেয়েছেন এক হাজার ২৩৩ ভোট।
রংপুর বিভাগঃ
কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. জাফর আলী ৬৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাপ-পিরিচ প্রতীকের পনির উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ২৭৯ ভোট।
জেলার ৯ উপজেলায় ১৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চ আদালতের আদেশে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনের ৬নং ওয়ার্ডে ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এ কেন্দ্রে মোট ভোটের সংখ্যা ৬৮টি।
লালমনিরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৩৭৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল হক পাটোয়ারী ভোলা মোটরসাইকেল প্রতীকে ১৫৫ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া অপর প্রার্থী লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব আনারস প্রতীকে ৮৯ ভোট পেয়েছেন।
খুলনা বিভাগঃ
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী কনক কান্তি দাস (চশমা প্রতীকে) ৫শ’ ৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি সমর্থিত এম হারুন অর রশিদ (আনারস প্রতীকে) পেয়েছেন ৩শ’ ৯২ ভোট এবং জাসদ সমর্থিত প্রার্থী মুন্সী এমদাদুল হক (মোটর সাইকেল প্রতীকে) পেয়েছেন ১ ভোট।
মাগুরায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পংকজ কুমার কুন্ডু বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ২৬৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমীর ওসমান রানা পেয়েছেন ১৭৬ ভোট।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ শামসুল আবেদীন খোকন (মোবাইল) প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ. লীগের মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মনজু (মোটরসাইকেল) প্রতীকে ২৪৭ ভোট পেয়েছেন।
নড়াইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস (জেলা আ. লীগের সদস্য) চশমা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২৯৪ ভোট। এদিকে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট সৈয়দ আইয়ুব আলী (জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি) আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৫৩ ভোট। পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, দিনাজপুরের হিলিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ভোটকেন্দ্র ভোটারশূন্য থাকার খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচন সুষ্টভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনও অনিয়ম বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।