জিতেও জিততে পারলোনা

যুগবার্তা ডেস্কঃ জিতেও জিততে পারলোনা। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত হেরেই গেল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডকে ২১৭ রানের লক্ষ্য দেয় লাল-সবুজের দল। কেন উইলিয়ামসনের শতক আর রস টেলরের হাফ সেঞ্চুরিতে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। এই হারে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ। ২০ জানুয়ারি ক্রাইস্টচার্চে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট। জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন কিউই ওপেনাররা। তবে নবম ওভারে ব্ল্যাক ক্যাপদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদি হাসান মিরাজ। রাভালের ক্যাচটাও লুফে নেন মিরাজ। কিউইদের রান তখন ৩২। এর পরের ওভারেই টম ল্যাথামকে ফিরিয়ে দেন মিরাজ। আপাত নিরীহ বলটা এসে লাগে ল্যাথামের স্টাম্পে। এর পর অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে জুটি বাঁধেন অভিজ্ঞ রস টেলর। ১৬৩ রানের জুটি গড়ে দলকে একেবারে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়ে আউট হন টেলর। শুভাশীষের বলে মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় টেলরের ৭৭ বলে ৬০ রানের ইনিংস। হেনরি নিকোলসকে নিয়ে বাকি পথটুকু নির্বিঘ্নেই পার করেন উইলিয়ামসন। ১০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন কিউই দলনেতা। এর আগে ওয়েলিংটন টেস্টে সোমবার সকালটা তাই খুব একটা সুখকর হয়নি বাংলাদেশের জন্য। শুরুতেই ফিরে যান সাকিব। আগের ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান এই ইনিংসে রানের খাতাও খুলতে পারেননি। সাকিবের এই আউটই চাপে ফেলে দেয় দলকে। অল্প কিছুক্ষণ পর ফিরে যান আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুলও। ২৩ রান নিয়ে তিনি যখন উইকেটে কিছুটা থিতু হয়েছেন, তখনই আঘাতটা হানেন ওয়াগনার। দলীয় ৯৬ রানের তিনিও ফিরে গেলেন সাজঘরে। এর পর দলীয় ১১৪ রানের মাথায় টিম সাউদির এক বাউন্সারে মুশফিকের মাথায় আঘাত হানে বল। হেলমেটে লাগে সেই বাউন্সার, আঘাত পেয়ে উইকেটেই শুয়ে পড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বেশ কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর মাঠ থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সাবধানতার কথা ভেবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় মুশফিককে। ফিরে যাওয়ার আগে তিনি করেছিলেন ১৩ রান ৫৩ বল খরচায়। ৫০তম ওভারের পঞ্চম বলে আউট হয়ে যান তাসকিন আহমেদও। বোল্টের এক ইয়র্কারে সরাসরি বোল্ড হন তরুণ পেসার। ফিরে যাওয়ার আগে তিনি করেন ২৩ বলে ৫ রান। একটি চারের মার ছিল তাঁর এই ইনিংসে। দলের ব্যাটিং বিপর্যয় ঠেকাতে ঊরুতে চোটে আক্রান্ত ইমরুল ব্যাট করতে নামেন। ইমরুলের সঙ্গে সাব্বির লড়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাফ সেঞ্চুরি (৫০) পূর্ণ করেই সাব্বিরও ফিরে যান। এর পর প্যাভিলিয়নে ফিরে যান কামরুল ইসলাম রাব্বি ও শুভাশীষ রায়ও। তবে ইমরুল ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তাই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৬০ রানে। ৫৭.৫ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে এই সংগ্রহ গড়ে মুশফিক বাহিনী। তাই সিরিজের প্রথম টেস্টে প্রতিপক্ষের সামনে ২১৭ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শেষেও ব্যাকফুটে ছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ অবশ্য এগিয়ে ছিল ১২২ রানে। দিনের শেষ পর্যায়ে তিনটি আউটই ছিল তার মূল কারণ। যদিও প্রথম ইনিংসে কিউইদের ৫৩৯ রানে অলআউট করে দিয়ে ৫৬ রানের লিডটাকে বড় করে চলছিলেন তামিম-ইমরুল। দুর্দান্ত খেলছিলেন এ দুজন। দলের রান তখন ৪৬। লিডটা কেবল শতরানের কোটা পেরিয়েছে। নেইল ওয়াগনারের করা ১৩তম ওভারে রান নিতে গিয়ে চোট পান ইমরুল কায়েস। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। এর পরই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। আজ অবশ্য চোট নিয়েই ব্যাট করতে নামেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৫৩৯ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড।