জাবিতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়, নজর নেই প্রশাসনের

তানভীর রিফাত,জাবি প্রতিনিধি: করোনার অজুহাতে ক্লাশ পরীক্ষা বন্ধ রাখলেও দর্শনার্থীদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন।
করোনার কারনে দীর্ঘ ১৭ মাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর গত ২১ অক্টোবর থেকে চালু হয় স্বশরীরে ক্লাশ পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরাআশা করেছিলেন, দ্রুত ক্লাশ-পরীক্ষা কিংবা শর্ট সেমিস্টারের মতো উদ্যোগ নিয়ে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে প্রশাসন।কিন্তু তেমন কোনো উদ্যোগই নেয়নি তারা। বরঞ্চ সরকারের নির্দেশনা মেনে বিগত ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্তসশরীরে ক্লাশ,পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে তারা। এক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় আইন-৭৩’ এর মাধ্যমে ব্যতিক্রমধর্মী সিদ্ধান্তনেওয়ার সুযোগ থাকলেও সে ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে পরীক্ষার দাবীতে মানববন্ধনে নেমেছেনচতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুকি থেকে রক্ষাকরতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক গেট থাকায় পুরোপুরিভাবে দর্শনার্থী আটকানো সম্ভব হচ্ছে না’।গেটে পরিচয় জানতে না চাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই। তবে আমি নিরাপত্তাকর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিবো যেনো তারা আরও কঠোর ভাবে দায়িত্ব পালন করে’।
প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ফটকে পরিচয় নিশ্চিত করেই প্রবেশ করতেদেওয়া হয়। তারপরও যদি এরকম ভুল হয় তাহলে আমি দুঃখিত’। তবে শিক্ষার্থীরাই নিজেদের রেফারেন্স দিয়ে দর্শনার্থী প্রবেশেরসুযোগ করে দেয় এমন পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী ফ্যাশন হাউজ থেকে ঘুরতে আসা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গেটে সাইনবোর্ড থাকলেও আমাদের চোখে পড়েনি। গার্ডরাওকোনোরকম বাধা দেয়নি, পরিচয়ও জানতে চায়নি’।
আরেক দর্শনার্থী মাহিন বলেন, ‘সপরিবারে ঘুরতে এসেছি। আশেপাশের অন্য যেকোনো জায়গা থেকে এখানে ঘুরতে আসতেভালোলাগে। তাই ছুটির দিনে এখানে চলে আসি’। গেটে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গেটে কোনোসাইনবোর্ড চোখে পড়েনি। মাইকিংও শুনিনি। দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এমনই জানি আমরা’।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাকিবুল রনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে গেইটগুলোতে আদতে কোনো কড়াকড়িঅবস্থান দেখিনি সাম্প্রতিক সময়ে। শুধু নোটিশ দিয়ে তো আর করোনার সক্রমণ কমানো সম্ভব নয়। সম্প্রতি উত্যক্ত করার কারণে দুজন ব্যক্তিকে আটক করেছে জাবি ছাত্রীরা। উত্যক্তকারীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় তাদের কোনো রকম পরিচিতি পর্বেরও সম্মুখীনও হতে হয়নি। কাজেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরকে নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন না করে শিক্ষার্থীদের উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বের হতে হবে। প্রকৃতপক্ষেই ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ও তার পেছনে সৎ উদ্দেশ্য দেখতে পেলে শিক্ষার্থীরাও নিশ্চয়ই তাদের আত্মীয়-স্বজনকে এই সময়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসতে অনুৎসাহিত করবেন’।